স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য এবার থাকছে না অঙ্গীকারনামা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই বিধান যুক্ত না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসির মতে, অঙ্গীকারনামা রাখা বা না রাখার ফলে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা নয়। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকারের ভোট। আগামী অক্টোবর থেকে এ ভোট শুরু হতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ আমার দেশকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রার্থীদের জন্য অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার বিধান বাদ দেওয়ার বিষয়টি আমি প্রস্তাব করেছি।’ তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনের মধ্যে কাঠামো ও ধরনগত পার্থক্য রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ধারণ করে আমরা ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র বলছে, অঙ্গীকারনামা থাকা বা না থাকার কারণে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কার্যত কোনো পার্থক্য নেই।
সূত্র জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে অঙ্গীকারনামাটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব জোরেশোরে আলোচনা হয়। আজ বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিধিবিধান চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
জানা গেছে, আগামী ১০ জুনের মধ্যে খসড়া চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আশা করছে কমিশন।
ইসি সূত্রমতে, স্থানীয় সরকারকাঠামোর ধারাবাহিকতা বিবেচনায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই ভোটের সূচনা করতে চায় কমিশন। কারণ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভোটের প্রয়োজন হয়। সে কারণে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তরের নির্বাচন আগে সম্পন্ন করার বিষয়ে কমিশনের মধ্যে ইতিবাচক মত রয়েছে। যদিও সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কার্যক্রম স্বতন্ত্র।
ইসির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সদস্য পদে ১ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া পৌরসভা নির্বাচনে এক লাখ বা তার বেশি ভোটারসংবলিত এলাকায় মেয়র পদের জামানত ৩০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে ৫০ লাখ বা তার বেশি ভোটারসংবলিত সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে জামানত ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আর কাউন্সিলর পদে জামানত ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকা এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ হাজার টাকা জামানত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনি ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকা এবং মহিলা সদস্যদের ক্ষেত্রে ব্যয়সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল রাজধানীর গুলশান, বনানী ও হাতিরঝিল এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় এবং এ লক্ষে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায়েও প্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকারের কাঠামো অনুযায়ী ইউপি দিয়ে ভোট শুরু করতে হবে। অন্যথায় উপজেলা কিংবা জেলা পরিষদ হলে এগুলোর কাঠামো পরিপূর্ণ হবে না। এমনকি জুলাইয়ে এইচএসসি পরীক্ষা। তাই ভোট অক্টোবরের আগে শুরু করা যাবে কীনা তা নিয়ে সংশয়ে আছি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ, চার হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৩৩০টি পৌরসভা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই নির্বাচন উপযোগী এবং নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা নেই।
জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যদিও উপজেলা পরিষদগুলোতে এখনো প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ সহজ করতে একটি নির্বাচনি ক্যালেন্ডারভিত্তিক সফটওয়্যার প্রস্তুত করেছে। এতে সর্বশেষ নির্বাচন, গেজেট প্রকাশ, শপথ গ্রহণ, প্রথম সভা, ওয়ার্ড বিন্যাস, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং মামলাসংক্রান্ত তথ্য সংযোজন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেট অনুমোদন এবং বিধি-বিধানের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্র, ভোটারের তথ্যসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রমও শুরু করেছে ইসির তথ্য-প্রযুক্তি শাখা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


শর্ত সাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত ইসরাইল ও লেবানন
প্রচণ্ড গরমে সুসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর