পে-স্কেলের ফাঁস হওয়া সুপারিশ নিয়ে যা বলছে কমিশন

আতিকুর রহমান নগরী

পে-স্কেলের ফাঁস হওয়া সুপারিশ নিয়ে যা বলছে কমিশন

নতুন পে-স্কেল প্রণয়নে গঠিত পে কমিশন চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে পারে। কমিশন এরই মধ্যে সুপারিশ তৈরির ৫০ শতাংশের মতো কাজ শেষ করেছে। আগামী সপ্তাহে সচিবদের মতামত নেওয়া হবে। এরপর কমিশন রিপোর্ট চূড়ান্তকরণের দিকে এগোবে বলে জানা গেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পে-স্কেলের সুপারিশ নিয়ে কথা বলেছেন পে কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান।

বিজ্ঞাপন

তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যে ১৫ পৃষ্ঠার সুপারিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে, সেটি কমিশনের তৈরি নয়। এমন কোনো নথি আমাদের কাছে নেই। এটি ভুয়া এবং বিভ্রান্তিকর। কমিশন দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরির কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্টেক হোল্ডারদের মতামত নেওয়া বাকি আছে। আগামী সোমবার কমিশনের সঙ্গে সচিবদের সভা রয়েছে। ফলে যে সুপারিশ ছড়িয়ে পড়েছে সেটি ভুয়া।’

এদিকে নতুন পে-স্কেল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১৫ পৃষ্ঠার সুপারিশপত্রে চাকরিজীবীদের গ্রেড ২০টিই রাখা হয়েছে। তবে এই সুপারিশেকে ভুয়া বলে জানিয়েছে পে কমিশন।

কমিশন জানায়, ফেসবুকে ব্যাপকভাবে শেয়ার হওয়া ওই নথিতে বিভিন্ন গ্রেডের বেতন বৃদ্ধি, ইনক্রিমেন্ট কাঠামো ও ভাতা সংশোধনের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা কমিশনের অনুমোদিত কোনো নথি নয়। বেতনস্কেলের খসড়া সুপারিশ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কোথাও কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, আবার কোনো নথি প্রকাশ বা ফাঁসও করা হয়নি। অথচ ফেসবুকে প্রচারিত নথিতে কমিশনের নাম-লোগো ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রেডে বেতন বাড়ানোর বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং সাধারণ সরকারি চাকরিজীবীদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে এটি বাস্তবায়ন করবে।’

তবে নবম পে স্কেলের গেজেট ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। এ দাবি চলতি নভেম্বরেই বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গত জুলাইয়ের শেষ দিকে সরকার সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে সভাপতি করে ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল, কমিশনের প্রথম সভার তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। দীর্ঘ বিরতির পর সরকারি কর্মজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো তৈরির জন্য এ কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...