শাহরিয়ার নাফীসের বই ’প্লে অ্যান্ড স্টাডি, উইন দ্য রেস’-এর মোড়ক উন্মোচন

শাহরিয়ার নাফীসের বই ’প্লে অ্যান্ড স্টাডি, উইন দ্য রেস’-এর মোড়ক উন্মোচন

খেলাধুলার সঙ্গে পড়াশোনার সমন্বয় এবং একজন অ্যাথলেটের জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বই লিখেছেন সাবেক বাংলাদেশি ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীস। ’প্লে অ্যান্ড স্টাডি, উইন দ্য রেস’ নামের বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি)। বইটির সহ-লেখক হিসেবে আছেন এইচ এম আতিফ ওয়াকিফ।

বিজ্ঞাপন

বইটিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলা ক্রিকেটার, ফুটবলার, কোচসহ বিভিন্ন ক্রীড়াবিদের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এমন অনেক প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়ের কথাও রয়েছে, যারা মেধা ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও খেলাধুলার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি। তবে তাদের পরবর্তী জীবনে পড়াশোনা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘এই বইটিতে ইন্টারন্যাশনাল প্লেয়ারও আছে, ফুটবলার আছে, ক্রিকেটার আছে, কোচ আছে। ঠিক তেমনি এমন কিছু মানুষের গল্পও আছে যারা অনেক প্রমিজিং ক্রিকেটার ছিল বা প্রমিজিং স্পোর্টস পারসনও, যারা আসলে খেলাধুলার আল্টিমেট জায়গায় যেতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু ওদের লাইফে পড়াশোনাটা কী পরিমাণে কাজে এসেছে, সেই জিনিসটা তারা সুন্দর, অন্যরকম করে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে।’

শুধু ক্রীড়াবিদদের অভিজ্ঞতা নয়, খেলাধুলা ও শিক্ষার সম্পর্ক নিয়ে শিক্ষাবিদদের মতামতও বইটিতে যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা একজন মানুষের পড়াশোনা ও শিক্ষাজীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব নিয়ে তাদের মতামত দিয়েছেন।

নাফীস বলেন, ‘বিভিন্ন ওয়ার্ল্ড রিনাউন্ড প্রফেসরস আসলে তারা বলেছেন যে মানুষের লাইফে পড়াশোনাটা করতে বা পড়ার ভালো করার জন্য খেলাধুলাটা আসলে কতটুকু জরুরি।’

বইটির পেছনে দীর্ঘ সময় গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে বলে জানান সাবেক এই ক্রিকেটার। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের অ্যাথলেট ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তিনি ও তার সহযোগীরা।

নাফীস বলেন, ‘আমরা গত তিন থেকে সাড়ে তিন বছর এই ডেটাগুলো কালেক্ট করেছি। এটা কোনো র‍্যান্ডম বা এরকম না যে আমি এখান থেকে নিলাম, ওখান থেকে নিলাম। এখানে ৩৫ জন অ্যাথলেটের ডেটা আছে এবং তাদের সেই ডেটাটা কালেক্ট করে এখানে গল্প আকারে নিয়ে আসা হয়েছে।’

তার মতে, বইটিতে শুধু সফল ক্রীড়াবিদদের গল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং খেলাধুলায় সম্ভাবনা থাকার পরও যারা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে পারেননি, তাদের জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং পড়াশোনার ভূমিকার বিষয়টিও পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

বইটি প্রকাশের পেছনে প্রকাশক ও সহকর্মীদের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন নাফীস। ব্যস্ততার কারণে সবসময় নিজে সময় দিতে না পারলেও দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর বইটি প্রকাশিত হওয়ায় সন্তুষ্ট তিনি।

বইটি তৈরির কাজে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তথ্য ও বিভিন্ন সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় বিসিবির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান সাবেক এই ক্রিকেটার। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন