সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের বিভিন্ন কার্যক্রমে দুর্নীতির অভিযোগসংবলিত একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনকে ‘ডিসইনফরমেশন’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রতিবেদনে প্রকল্পের ব্যয়, ডকুমেন্টারি নির্মাণ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
ডিজিটাল অনুসন্ধানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্টকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ফারুকী বলেন, প্রতিবেদনের শিরোনামেই বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে। তার ভাষ্য, প্রায় ১৫০ কোটি টাকা নয়ছয়ের দাবি সঠিক নয়; এ পর্যন্ত প্রকল্পে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যার মধ্যে ৯৬ কোটি টাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে অবকাঠামোগত কাজে ব্যয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছে অর্থ হস্তান্তর করেছে। অথচ প্রতিবেদনে পুরো ব্যয়ের দায় জাতীয় জাদুঘরের ওপর চাপানো হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিবেদনে ডকুমেন্টারি নির্মাণের ঠিকানা হিসেবে একটি অটোরিকশা গ্যারেজ দেখানোর বিষয়েও আপত্তি জানান ফারুকী। তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি প্রকল্পের ডকুমেন্টারিগুলো দেশের তরুণ ও পরিচিত চলচ্চিত্র নির্মাতারা নির্মাণ করেছেন। তার দাবি, জাতীয় জাদুঘরের অর্থায়নে ১৯টি বিষয়ে ৬২টি কনটেন্ট নির্মিত হয়েছে এবং শিল্পকলা একাডেমির অর্থায়নে আরো কয়েকটি সিরিজ তৈরি করা হয়েছে।
ডকুমেন্টারিগুলোর প্রতিটির জন্য ২৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে—এমন দাবিকেও ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তার দাবি, চার থেকে পাঁচ মিনিটের কোনো প্রামাণ্যচিত্রের জন্য এ পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়নি এবং জাতীয় জাদুঘরের কাছে ব্যয়ের বিস্তারিত তালিকা রয়েছে।
ফারুকী আরো বলেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে সরকার ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) অনুসরণ করে কাজ বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। সে সময় প্রযোজনা ব্যয়ের অগ্রিম অর্থায়নের জন্য একটি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়, যারা প্রায় ৭ শতাংশ ফি নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছিল।
ট্রেড লাইসেন্সের ঠিকানা নিয়ে প্রতিবেদনে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানই স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে মালিকের বাসার ঠিকানা ব্যবহার করে থাকে। তাই শুধু ওই ঠিকানায় অফিস না থাকাকে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বহীনতার প্রমাণ হিসেবে দেখানো যৌক্তিক নয়।
জুলাই জাদুঘরের নির্মাণ ব্যয় প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, অবকাঠামোগত সব কাজ গণপূর্ত অধিদপ্তর সম্পন্ন করেছে। বাউন্ডারি ওয়ালের ব্যয়ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের, জাতীয় জাদুঘরের নয় বলে তিনি দাবি করেন।
ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের অন্যতম ভাস্কর তেজশ হালদারের কাজ জাদুঘরে স্থান পেয়েছে এবং বিদেশি দর্শকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।
ফারুকীর অভিযোগ, জুলাই জাদুঘর এবং এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ডকুমেন্টারিগুলো নিয়ে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘জুলাই জাদুঘর এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নির্মিত ডকুমেন্টারিগুলো অনেকের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


