ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগসহ দেশের তিন স্থানে এই দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে, সন্ধ্যায় কুমিল্লা পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে এবং রাত ৮টায় শাহবাগে সংঘর্ষ হয়।
শাহবাগে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির মুখোমুখি, মুসাদ্দিকের ওপর হামলা

রাজধানীর শাহবাগে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের দুই নেতা এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলা করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানার সামনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে হামলার মুখে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ও সমাজসেবা সম্পাদক এবি যুবায়ের শাহবাগ থানার ভেতরে আশ্রয় নেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের মধ্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানার ভেতরে ঢুকে মুসাদ্দিকের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হন।
কুমিল্লা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ আহত ১০

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, ‘গুপ্ত শিবির’ বলাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেলে নাফিস আব্দুল্লাহ নামে একজন শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় দেয় কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ থাপ্পড়ের বিচারের জন্যই সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের কক্ষে যায় ছাত্রশিবির। অধ্যক্ষ বিচারের জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করে। কিন্তু তাৎক্ষণিক বিচার দাবি করে ছাত্রশিবির। এ সময় হঠাৎ করে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ হামলায় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নাকচ করে বলছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে ছাত্রশিবির বলছে গুপ্ত লেখাকে কেন্দ্র করেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা করেছে।
ঈশ্বরদীতে ছাত্রশিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষে গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ

পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নাকচ করে বলছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে ছাত্রশিবির বলছে গুপ্ত লেখাকে কেন্দ্র করেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা করেছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে ‘গুপ্ত লেখা’ নিয়ে চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ২০ জন আহত হন। এ ঘটনার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

