আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

র‌্যাবের ডিজি হতে পারেন জিল্লুর

নতুন আইজিপি হওয়ার চেষ্টায় তিনজন, পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ

আল-আমিন

নতুন আইজিপি হওয়ার চেষ্টায় তিনজন, পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর পুলিশ প্রশাসনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনাÑকে হচ্ছেন নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। গত রোববার বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তিনি তা নাকচ করেছেন। তার চুক্তির মেয়াদ রয়েছে ২০২৬ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন আইজিপি নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতোমধ্যে পদ পেতে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নতুন আইজিপি হওয়ার দৌড়ে তিনজন এগিয়ে আছেন। তারা হলেনÑর‌্যাবের ডিজি একেএম শহীদুর রহমান, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকির এবং সিএমপি কমিশনার অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ। অন্যদিকে বিশেষায়িত বাহিনী র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে আলোচনায় আছেন রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক ডিআইজি গতকাল সোমবার আমার দেশকে জানান, নির্বাচনের আগে থেকেই একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সক্রিয় ছিলেন। নির্বাচনের পর তাদের তৎপরতা আরো বেড়েছে। তিন অতিরিক্ত আইজিপি পুলিশের সর্বোচ্চ অভিভাবক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন আইজিপি হওয়ার জন্য আগ্রহীরা বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কয়েকজন ইতোমধ্যে বিএনপির হেভিওয়েট একাধিক নেতার বাসায় গিয়ে দেখাও করে এসেছেন। তারা নিজেদের বায়োডাটা সংশ্লিষ্ট মহলে বিস্তারিত আকারে তুলে ধরছেন। ফ্যাসিবাদের আমলে তারা কীভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, প্রমোশনবঞ্চিত হয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বদলি পাননিÑএসব বিষয় তুলে ধরছেন তারা।

সূত্র জানায়, র‌্যাব মহাপরিচালক একেএম শহীদুর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আগামী ১৫ মার্চ শেষ হচ্ছে। তিনি আইজিপি হওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। বরিশালের বাসিন্দা শহীদুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ১২তম ব্যাচ থেকে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি নোয়াখালী ও শরীয়তপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন। ফ্যাসিবাদের পতনের পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তিনি বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকার তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকার তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে।

সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের বাসিন্দা হাসিব আজিজও আছেন আইজিপি হওয়ার আলোচনায়। তিনি ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০০২ সালে তিনি ঝিনাইদহে অতিরিক্ত এসপির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি ফেনীর এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সূত্র জানায়, সামনের আইজিপি হিসেবে একজন পেশাদার, সৎ, বিতর্কমুক্ত ও পুলিশিং বোঝেনÑএমন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে চার শতাধিক মেধাবী কর্মকর্তাকে বিভিন্ন অজুহাতে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। একাধিক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। যাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে, তাদের বড় অংশ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার জন্য বিভিন্নজনের কাছে তদবির করছেন। সবাই নতুন সরকারের কাছে তাদের মূল্যায়নের অপেক্ষায় আছেন।

২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আইজিপি বাহারুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ২১ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন