ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি।

সোমবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন ও মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী একযোগে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ১৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪০টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে পাইলটিং কর্মসূচি পরিচালনায় বরাদ্দকৃত ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই অর্থবছরে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ১২ হাজার কোটি টাকা ভাতা হিসেবে রাখা হয়েছে। কর্মসূচি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’।

মন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থ-সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হবে। শ্রেণিগুলো হলো— অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত। পিএমটি স্কোর অনুযায়ী ৮৬০ নম্বর বা তার কম নম্বরপ্রাপ্ত নারীপ্রধান পরিবারগুলো ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে। তবে সব নারীপ্রধান পরিবারই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন এবং ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা প্রযোজ্য হবে।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, আজ থেকে দেশব্যাপী একযোগে খানাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা জরিপের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের কাজে ৬৬ হাজার ৬১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন। ইতোমধ্যে তাঁদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানান, তথ্য সংগ্রহকারীরা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে জমা হবে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কার্ড তৈরি, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) রুম স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। বর্তমান অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারীপ্রধান পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

উপকারভোগীদের সুবিধার বিষয়ে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি যুক্ত থাকবে। পাশাপাশি সরকারি এজেন্ট ব্যাংকিং, বিকাশ, রকেট, উপায় ও ট্যাপের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) এবং পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস)-এর মাধ্যমে সহজে ভাতা উত্তোলনের সুবিধা রাখা হয়েছে।

সরকারের এই দূরদর্শী উদ্যোগের মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন