পলাতক সরকার যেভাবে দেশ চালিয়েছে, বিরোধীরাও সেই সূত্রে চলছে: রুমন

পলাতক সরকার যেভাবে দেশ চালিয়েছে, বিরোধীরাও সেই সূত্রে চলছে: রুমন
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের সফলতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অর্জন নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন ঘটনা সামনে এনে সেই আলোচনা ভিন্ন খাতে নেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, ‘পলাতক সরকার যে সূত্রে দেশ চালিয়েছে, সেই মন্ত্রেই মনে হয় আমাদের যারা বিরোধিতা করছে, তারা এখনো চলছে।’

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, কোনো একটি ঘটনা ঘটলে সেটিকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রথমে অনলাইনভিত্তিক অপেক্ষাকৃত ছোট বা নিম্নস্তরের কিছু মাধ্যমে এসব ঘটনা নিয়ে খবর প্রকাশ করা হয়। এরপর দেশের নামকরা ও শীর্ষ অনলাইন এবং পত্রিকাগুলো সেই সূত্র ধরে সংবাদকে বড় আকারে পরিবেশন করে।

তিনি বলেন, ‘এমন একটি ঘটনা ঘটানো হলো, যাতে আমরা একটা জায়গায় যাচ্ছি সেই নিউজটা আর সামনে আসছেনা। আমি লক্ষ্য করেছি, বিভিন্ন টেলিভিশনে এটা নিয়ে টকশো বা কথাবার্তা হয়েছে। কিন্তু দেখেছি, ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে। অনলাইন যে মিডিয়াগুলো আছে, সেগুলোর সবচেয়ে নাম্বার ওয়ান—আপনারা জানেন—সেগুলোও না, তারও নিম্নস্তরের মিডিয়াগুলো প্রথমে সূত্র শুরু করল। এই ঘটনাগুলো অনলাইনের মাধ্যমে জাতির সামনে, দেশবাসীর সামনে তুলে ধরল। ঠিক তার পরেই আমরা কী লক্ষ্য করলাম? আমরা যারা সুনামধন্য এবং নাম্বার ওয়ান অনলাইন বা পত্রিকা কিংবা মিডিয়াগুলো আছি, সেই সূত্র টেনে এনে নিউজকে বড় আকারে পরিবেশন করলাম।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে দেশের জন্য সফলতা বয়ে এনেছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে রাত ১১টা, কোনো কোনো দিন রাত ১১টা ৩০ মিনিট, এমনকি ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন।

রুমন বলেন, ‘আমরা ওখানে গিয়েছি, প্রোগ্রাম শুরু করেছি, প্রোগ্রাম শেষ করেছি। মানুষ আমেরিকায় গেলে কী করে—ঘোরাফেরা করে। কিন্তু বিশ্বাস করেন, আমরা হোটেল ছাড়া তেমন কোথাও বের হতে পারিনি। সাংবাদিক ভাইয়েরা একটু অগ্রিম গেছেন বা প্রশাসনের লোকজন অগ্রিম যারা গেছেন, তারা হয়ত এ রকম কিছু করেছেন। আমরা কিন্তু কোনো কাজ করতে পারিনি। আমরা কাজ শেষ করে আবার চলে আসছি।’

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর সরকারের এই সফলতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ, আলোচনা ও টকশো হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখনই আরেকটি ঘটনা সামনে আনা হয়, যার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য ও সফরের অর্জন নিয়ে আলোচনা আড়ালে পড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘যখন দেশে আসলাম, তখন আমাদের এই সফলতা নিয়ে নিউজ হবে। আমাদের এই সফলতা নিয়ে কথাবার্তা হবে। আপনারা টকশো করবেন, বিভিন্ন মিডিয়াতে আলোচনা হবে। ঠিক তখন দেখা গেল আরেকটি ঘটনা ঘটানো হলো। যে ঘটনা দিয়ে আমাদের নিউজগুলো হবে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য বা এগুলোর কথা আলোচনা হবে—কি হলো, না হলো—সেটি আর হলো না। এমন ঘটনা হলো যে, আপনারা দেখলাম, আমি খেয়াল করলাম, সবগুলো মিডিয়ার টকশো—সবগুলোতেই ওইটা নিয়েই একটা আলোচনা করা হলো।’

রুমন বলেন, ‘যদি একটি মানুষকে ছাতা কেটে দিতে যান, যদি যে নদীটা পার হন, আপনি যদি তার হাত-পা বেঁধে দেন, তাহলে সে নদী পার হতে পারবে? পারবেন না ভাই, আমি কেউ পারব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কথাগুলো ডাইরেক্ট বলতেছি না, আবারও বলতেছি—আপনারা বুঝে নেবেন। যদি একটা সরকার এসে আপনারা যদি হাত-পা বেঁধে বলেন যে, সাঁতরে নদীটা পার হতে হবে, এই পরীক্ষায় কিন্তু কেউ পাশ করতে পারবে না।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের কার্যক্রম ও কী ঘটছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এবং সংশ্লিষ্টরা—এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মূল ঘটনা আমাদের এখন কী হয়েছে, না হচ্ছে—বিস্তারিত মাহাদী আমিন আছেন, আমাদের প্রেস সচিব আছেন, উনি বলবেন।’

সবশেষে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলব—আমরা সহযোগিতা চাই। বারবার আপনাদের কাছে আহ্বান করছি, আমাদের সহযোগিতা করুন। আমাদের দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সত্যিই একটি সুন্দর, সফল বাংলাদেশ করতে চান। আপনারা প্লিজ সহযোগিতা করুন।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন