ঘটনাটি শিবির ও ছাত্রীসংস্থার জন্যেও একটা লিটমাস টেস্ট: আবিদ

ঘটনাটি শিবির ও ছাত্রীসংস্থার জন্যেও একটা লিটমাস টেস্ট: আবিদ

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং গত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যের নির্বাচনের আগেও নারী বিদ্বেষী মনোভাব দেখা গেছে। তার নির্বাচনি বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার খুঁজলে পাবেন। তবে তা নিয়ে কিছু বলার নেই, কারণ এই নারী বিদ্বেষী কথাবার্তাই তাদের দলীয় অবস্থান। তবে প্রশ্ন হলো এই অনৈতিক কর্মও কী তাদের দলীয় অবস্থান? তা না হলে দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অ্যাকশন নেই কেন?

মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে আবিদ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ফাঁস হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রিউমর স্ক্যানার নিশ্চিত করেছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি নয়, বাস্তব। ভিডিওতে থাকা নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছে জেলা জামায়াত, যদিও এই বিয়ে ঠিক কবে হয়েছে তা নিয়ে দলটির নিজস্ব বক্তব্যেই স্পষ্টতা নেই।

বিজ্ঞাপন

একজন সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটা গুরুতর এবং জবাবদিহিতার দাবি রাখে। পৃথিবীর যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন বিতর্ক উঠলে তার জনপ্রতিনিধিত্বের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তিনি হয়তো প্রাইভেসি লঙ্ঘনের শিকার হতে পারেন কিন্তু একই সাথে তার এমন অনৈতিক আচরণ নিয়ে জনপরিসরে জবাবদিহিতার প্রশ্ন উঠতে পারে - বুঝতে হবে এই দুটো বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়।

এই ব্যক্তির নির্বাচনের আগেও নারী বিদ্বেষী মনোভাব দেখা গেছে। তার নির্বাচনি বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার খুঁজলে পাবেন। তবে তা নিয়ে কিছু বলার নেই, কারণ এই নারী বিদ্বেষী কথাবার্তাই তাদের দলীয় অবস্থান। তবে প্রশ্ন হলো এই অনৈতিক কর্মও কী তাদের দলীয় অবস্থান? তা না হলে দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অ্যাকশন নেই কেন?

এই ঘটনাটি শিবির ও ছাত্রীসংস্থার জন্যেও একটা লিটমাস টেস্ট। তারা নাকি জামাতের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি করেনা। কিন্তু আপনি দেখবেন না শিবিরের কেউ এই বিষয়ে মুখ খুলছে। পারলে উল্টো খুবই কুৎসিত পদ্ধতিতে ডিফেন্ড করবে।

Abid's-post

এখানে সবচেয়ে জরুরি হলো স্পষ্টতা। বিয়ের প্রামাণ্য দলিল, তারিখ, নিকাহনামা বা নারীর পরিচয় সংক্রান্ত কোনো স্বচ্ছ তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মেয়েটি একজন মাইনর। যদি মেয়েটি প্রাপ্ত বয়স্ক ও তাকে নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের দাবি সত্য হলে তার আইনি প্রামাণ্য দলিল প্রকাশ করতে সমস্যা কোথায়? আর যদি এই বিয়ের দাবিতে কোনো অসংগতি থাকে, বিশেষ করে ওই নারীর বয়স বা সম্মতি নিয়ে, তাহলে তা কেবল ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না, আইনি তদন্তের বিষয়ে পরিণত হয়। এখানে স্বাভাবিক বিবেকেই বোঝা যাচ্ছে সম্পর্কটি ব্যালেন্সড নয়, এখানে একদিকে দুর্বল মাইনর আরেকদিকে ক্ষমতাবান এমপি। প্রশাসনের উচিত এই দাবির সত্যতা যাচাই করা, এবং যদি কোনো বয়সজনিত বা সম্মতিহীনতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা ফৌজদারি আইনের আওতায় বিচার হওয়া উচিত, পদ বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে।

জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় সংসদ উভয়েরই উচিত এই বিষয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ অবস্থান নেওয়া। নীরবতা বা অস্পষ্ট বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। জনগণের সামনে জবাবদিহিতা এড়িয়ে যাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের নৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বাই দ্য ওয়ে, কারও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও তার সম্মতি ছাড়া ফাঁস হওয়া একটি অপরাধ এবং প্রাইভেসি লঙ্ঘন। এই নিন্দা জামায়াতের এমপি হোক বা অন্য যে কোনো দলের নেতা হোক, কোনো ব্যতিক্রম হতে পারে না। কিন্তু দিনশেষে এটি একজন পার্লামেন্টারিয়ানের চরম নৈতিক অসততা প্রকাশ্যে এনেছে। এটাও মাথায় রাখা জরুরি।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন