আমার দেশ-এর কপি ছেঁড়ার ঘটনায় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ডিআরইউর

আমার দেশ-এর কপি ছেঁড়ার ঘটনায় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ডিআরইউর

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের প্রকাশ্যে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।

বিজ্ঞাপন

রোববার কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে এক বিবৃতিতে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

বিবৃতিতে ডিআরইউ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা শুধু একটি পত্রিকার প্রতি অবজ্ঞা নয়, বরং মুক্ত সাংবাদিকতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি চরম অবমাননা। কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনে ভুল থাকলে কিংবা কোনো বক্তব্যে আপত্তি থাকলে তার প্রতিবাদ জানানোর এবং আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলে ক্ষোভ প্রকাশ করা বা প্রতিবাদ করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না। মতের অমিলের জবাব হতে হবে যুক্তি ও তথ্য দিয়ে, সংবাদপত্র ছিঁড়ে নয়।

তারা আরও বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সেই দর্পণে প্রতিফলিত কোনো বিষয় অপছন্দ হলেই দর্পণ ভেঙে ফেলার মানসিকতা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে, কিন্তু সেই সমালোচনার নামে সংবাদপত্রের প্রতি অবমাননাকর আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করার আশঙ্কা তৈরি করে।

ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল, সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত। তার এমন কর্মকাণ্ড সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। রাজনৈতিক পদ বা ক্ষমতার অবস্থান কাউকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের অধিকার দেয় না।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীসহ বিভিন্ন মতের সাংবাদিক কাজ করেন। তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস বা পেশাগত অবস্থান যা-ই হোক, সাংবাদিক হিসেবে তাদের মর্যাদা ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার প্রতিবাদ জানানোই গণতান্ত্রিক পথ। সংবাদপত্রের প্রতি অবমাননাকর আচরণ দিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা গেলেও সত্য প্রকাশের আকাঙ্ক্ষাকে মুছে ফেলা যায় না উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমতকে মোকাবিলা করতে হয় যুক্তি দিয়ে, অবজ্ঞা দিয়ে নয়। তারা অবিলম্বে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অবাধ মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন