সংসদীয় কমিটি

ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ডিলার নিয়োগে আসছে নতুন নীতিমালা

ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ডিলার নিয়োগে আসছে নতুন নীতিমালা

ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। নীতিমালাটি কার্যকর হলে ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এমনটা আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টুর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, আবুল কালাম, আবু তালেব মণ্ডল, আব্দুল করিম এবং শামছুন্নাহার বেগম।

ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টু বলেন, খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে উপকারভোগী নির্ধারণে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে, সে জন্য এ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণের সুপারিশ করেন তিনি। পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোতে ৬ হাজার ৬৫৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কার্যক্রম বন্ধ করে দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুপারিশ করে কমিটি।

বৈঠকে খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটির প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সচেতন। এ লক্ষ্যে খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিশুখাদ্যসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যাতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, সে জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তাসহ শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিটি কার্যালয়ে মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং খাদ্যে ভেজাল পর্যবেক্ষণের জন্য মোবাইল ভ্যান সরবরাহের কাজও চলমান রয়েছে।

বৈঠকে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এ পরিস্থিতিতে কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং অকৃষি কাজে কৃষিজমির অননুমোদিত ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন