মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদিকে, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে (এপেলো) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আইরিন খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই আইরিন খান তার নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন।
২০১০ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দ্য ডেইলি স্টারের ‘কনসাল্টিং এডিটর’ হিসেবে কাজ করেন আইরিন খান।
তিনি ২০২০ সালের ১ আগস্ট থেকে জাতিসংঘে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৩ সালে এই পদ চালু হওয়ার পর থেকে তিনি প্রথম নারী হিসেবে এ দায়িত্ব পান।
তিনি বর্তমানে জেনেভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে শিক্ষকতা করছেন। তিনি ‘দ্য আনহার্ড ট্রুথ: পভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ বইয়ের সহলেখক।
২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইরিন। প্রথম নারী হিসেবে সংস্থাটির নেতৃত্ব দেন তিনি।
২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আইরিন খান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এটি একমাত্র আন্তসরকারি সংস্থা, যা শুধু আইনের শাসন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।
আইরিন খান তার পেশাদার কর্মজীবন শুরু করেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মাধ্যমে। সদর দপ্তরসহ নানা দেশে ২১ বছর এই সংস্থায় কাজ করেছেন তিনি। এ সময় তিনি ভারতে ইউএনএইচসিআরের ‘চিফ অব মিশন’ এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষাবিষয়ক বিভাগের উপপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আইরিন পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড ল স্কুলে।
অন্যদিকে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ মিশনে উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে (এপেলো) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বিএনপির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, দলের আইসিটি ও পরিবেশ বিষয়ক বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি খুব দ্রুত জাতিসংঘে তার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রথমবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দুজন উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি থাকবেন। তাদের মধ্যে একজন উপ-প্রতিনিধি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ড. খলিলুর রহমানকে সহায়তা করবেন এবং অন্যজন হবেন একজন পেশাদার কূটনীতিক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


