বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি প্রণয়ন করছে সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি

বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি প্রণয়ন করছে সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষে সরকার আগামী মাসের মধ্যে একটি বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি প্রণয়নের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি সৌরশক্তি ব্যবসার প্রসারের লক্ষে আমাদের এমন একটি নীতি করতে হবে। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী এতে সায় দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সোনাগাজী ১৩০ মেগাওয়াট সোলার প্রকল্প বিষয়ক মার্কেট সাউন্ডিং ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সৌরশক্তি ব্যবসাকে সহজতর করতে এ সংক্রান্ত সরঞ্জামাদির ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করার চিন্তাভাবনা চলছে।

পাকিস্তানকে একটি সফলতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান সরকার সৌর সরঞ্জাম আমদানি করে বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দিয়েছে। এতে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরাসরি সৌর সরঞ্জাম আমদানি করে অথবা বেসরকারি খাতে শূন্য শুল্কে আমদানির অনুমতি দিয়ে একই ধরনের পন্থা অবলম্বন করতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত সম্প্রসারণে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমদানির ওপর ন্যূনতম শুল্ক ও কর আরোপ করে এবং পাঁচ বছরের জন্য কর অবকাশ দেয়, তাহলে উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন। রাজস্বের আগে বিনিয়োগকে প্রাধান্য দিতে হবে। পাঁচ বছর পর সরকার স্বাভাবিকভাবেই কর পাবে বলেও জানান তিনি। প্রস্তাবিত নীতিমালায় এসব বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলেও জানান জ্বালানি মন্ত্রী।

ঢাকায় সৌরশক্তির বিপুল সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আবাসিক এলাকার ভবনের ছাদগুলো নেট মিটারিং ব্যবস্থার অধীনে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইজারা দিলে শুধু শহর থেকেই এক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এই উদ্যোগটি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমাবে এবং সংরক্ষিত বিদ্যুৎ শিল্পখাতে সরবরাহ করা যাবে। সরকারের বিনিয়োগমুখী উদ্যোগগুলো গার্মেন্টস খাতের মতো দেশে সৌরশক্তি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি যাত্রায় বেসরকারি খাতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশকে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আর্থিক বোঝার ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে। সৌরশক্তি এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে গ্রিডের স্থিতিশীলতা, সর্বোচ্চ চাহিদার ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির টেকসই ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন