বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এবং রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ভারত কখনো আমাদের বন্ধু হতে চায় না। তারা শুধু মুখে বলে আমরা বাংলাদেশের বন্ধু, কিন্তু কাজকর্মে তার উল্টোটা করে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও তারা সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করেনি। তারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দাবি করলেও সেখানে বিনা কারণে তাদের মতাদর্শের বাইরে যাওয়ায় মুসলমানদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও ভেঙে দিয়ে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাদের এই আচার-আচরণের কারণে পৃথিবীর সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ বুঝতে পেরেছে ভারত অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস করে না। তারা হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করে মুসলমানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করতে চায়। তাই তারা কখনো বাংলাদেশের বন্ধু হতে পারে না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ট্যাক্সের হাটে কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহার আরো বলেন, “আমরা সব সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ ও সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। কিন্তু ভারত সরকার সব সময় উল্টো পথে হেঁটে বাংলাদেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। তারা তাদের স্বার্থকে সব সময় বড় করে দেখেছে। বাংলাদেশের স্বার্থ কখনো তাদের কাছে মুখ্য বিষয় ছিল না।”
তিনি বলেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে জিতে মুসলমানদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে বাংলাদেশ-বিরোধী কথাবার্তা বলে বাংলাভাষীদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। আমরা আশা করেছিলাম ভারত একটি রাষ্ট্র হিসেবে অপর রাষ্ট্রকে সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সঠিক পরামর্শ প্রদান করবে।
বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে জুলাই আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের ফসল আজকের এই বর্তমান সরকার। আমরা যারা জাতীয় সংসদে এসেছি, স্বাধীনভাবে কথা বলছি, মাথা উঁচু করে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছি—সবই ছাত্র-জনতার অবদান। বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে ওয়াদা করেছিল যে ক্ষমতায় এলে ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি শব্দ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। কিন্তু সংসদে বসেই তারা গণভোটের বিষয়টি বাতিল করেছে। তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদ এবং তাদের পরিবারের সাথে প্রতারণা করছে। এই মহান সংসদে যদি জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে সরকারকে কঠিন মূল্য দিতে হবে। ছাত্র-জনতা দাবি আদায়ে আবারো মাঠে নামলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের পূর্ণ সমর্থন দেবে। তাই গণ-বিস্ফোরণের আগেই জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি সরকারকে অনুরোধ জানান।
আইনশৃঙ্খলা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ে তিনি বলেন, সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। ছিনতাই, হত্যা, ধর্ষণ থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে টেন্ডারবাজির মতো অপকর্ম মিডিয়ার সামনে আসছে। বিশেষ করে মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের কারণে শান্তিপ্রিয় মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। এসব দমনে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এটিএম আজহার বলেন, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ। বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। কোরবানিকে সামনে রেখে বিশেষ করে তেল এবং মসলা জাতীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। যেভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, তাতে খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপদে পড়বে। সরকারের উচিত এখনই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরা এবং সরবরাহ বাড়িয়ে দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা।
সমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য আল্লাহর রাসুলের আদর্শকে আঁকড়ে ধরে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা। এই পৃথিবীতে আমাদের ব্যক্তিগত চাওয়ার কিছু নেই। আমাদের কাজকর্মে যেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কোনো মানুষ কষ্ট না পায়। পরকালে আমাদের হিসাব দিতে হবে। তাই দায়িত্ব পালনে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের কথা ও কাজের মিল থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তির কৃতকর্মের জন্য যেন সংগঠনকে কেউ দোষারোপ করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”
রামনাথপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি সামসুল হক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মী সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা আমির কামরুজ্জামান কবীর, নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মদ রুস্তম আলী ও সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

