আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ইসলামী শরীয়াহ ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব মেনে শাওয়াল মাস ঘোষণার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার

ইসলামী শরীয়াহ ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব মেনে শাওয়াল মাস ঘোষণার আহ্বান

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চন্দ্র মাস গণনার ক্ষেত্রে কুরআন, সুন্নাহ, ফিকহ, জ্যোতির্বিজ্ঞান এমনকি বাংলাদেশ হতে প্রতি মাসে অফিশিয়ালি প্রদত্ত নতুন চাঁদের স্থানাংক মানছেন না। ফলে বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমান প্রতি রমজানের প্রথম রোজাটি রাখতে পারছেন না। শাওয়াল মাসের ১ তারিখকে রমজানের শেষ তারিখ বিবেচনা করে ঈদুল ফিতরের দিনে রোজা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে চন্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করে চন্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটি।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির মহাসচিব মুফতি রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৫ ও ১৮৯, সুরাহ তাওবা-৩৬, সূরা আর রহমান-৫, সূরা ইউনুস-৫ আয়াত সমূহ, বুখারী শরীফ ১৯০৯, মুসলিম শরীফ-১০৮১ নং হাদিস এবং গত সাড়ে ১৩শত বছরের হানাফী, হাম্বলী, মালেকী মাযহাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৮৬ সালের অক্টোবর মাসে আম্মান কনফারেন্সে বিশ্বের শতাধিক শরীয়াহ্ বিষেশজ্ঞের রায়ের ভিত্তিতে ওআইসির ফিকহ একাডেমিরও ফতোয়া রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি শরীয়ত এবং বিজ্ঞানভিত্তিক এ সিদ্ধান্ত না মেনে আরবসহ বিশ্বের অধিকংশ দেশের একদিন পরে বাংলাদেশে চন্দ্র মাসগুলো শুরু হবে, অলিখিত এ রেওয়াজ অনুসরণ করে চলেছেন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ২০১৭ সনের ১৯ জানুয়ারি এবং ২ ফেব্রুয়ারি চন্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটির সাথে ইসলামিক ফাউন্ডেশন তথা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ২০১৮ সনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, কোভিড-১৯, আলেনাচনা সভার সভাপতির ইন্তেকাল ইত্যাদি কারণে বিষয়টির সমাধান অসমাপ্ত রয়ে যায়। এমতাবস্থায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে চান্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটির সাথে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর অসমাপ্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্পন্ন করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ সমস্যাটির অনতিবিলম্বে সমাধানের দাবিতে উক্ত সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।

মুফতি রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, পবিত্র কোরানের ১৩খানা আয়াতের নির্দেশনা মোতাবেক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং বাংলাদেশ আবওহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত নতুন চাঁদের স্থানাংকের হিসাব অনুযায়ী ১৯ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে শাওয়াল মাসের নুতন চাঁদের জন্ম। সে অনুযায়ী ১৯ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার দিবাগত সন্ধ্যা হতে পবিত্র শাওয়াল মাস ১৪৪৭ হিজরী শুরু এবং ২০ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার পবিত্র শাওয়াল মাসের ১ তারিখ তথা পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। কিন্তু খুবই পরিতাপের বিষয় হলো বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি পবিত্র কুরআনের উক্ত ১৩ খানা আয়াতের একাংশের ভিত্তিতে সৌর ক্যালেন্ডার অনুসরন করে সাহারী, ইফতার, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময় মেনে চলেন। কিন্তু উক্ত আয়াতগুলোর অপরাংশ চন্দ্র ক্যালেন্ডার বা চাঁদের হিসাব মেনে মাস শুরু না করার কারণে প্রতি বছরের মতো আসন্ন শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরী মাসের ১ তারিখে ঈদুল ফিতরের দিনে রোজা রেখে হারাম আমল করতে বাধ্য হবেন বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলিম। এমতাবস্থায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সরকারের ধর্ম মন্ত্রাণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির দায়িত্বশীল ব্যাক্তি বর্গের নিকট আমাদের দাবি দেশের কোটি কোটি মুসলিমকে ঈদের দিনে রোজা রেখে হারাম আমল করতে বাধ্য করা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ইসলামী শরীয়তের সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন চাঁদের স্থানাংকের হিসাব অনুযায়ী আসন্ন ১৪৪৭ হিজরী তথা ২০২৬ সনের শাওয়াল মাসের শুরু ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সাবেক মন্ত্রী- ধর্ম ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক, মুফতি মাওলানা ড. সাইয়্যিদ আবদুল্লাহ আল মারুফ, সেন্টার স্ট্রাটেজিক এন্ড পিস স্টাডিজের ভাইস চেয়ারম্যান কর্নেল (অবঃ) আশরাফ আল দীন প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...