ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের হামলায় অর্ধশত মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনাকে অপতথ্য ছড়িয়ে আড়ালের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি।
তিনি বলেন, ছাত্রদের মাথা লক্ষ্য করে যেভাবে লাঠিচার্জ ও গুলি চালানো হয়েছে, তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন সংলগ্ন জামেয়া দারুল আরকাম আল ইসলামিয়া মাদরাসায় আহত শিক্ষার্থীদের সশরীরে দেখতে এবং তাদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি। পরে সেখানে আয়োজিত জরুরি ব্রিফিংয়ে ঘটনার প্রকৃত চিত্র ও ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন তিনি। এ সময় এনসিপির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আশরাফ মাহদি বলেন, গত ১৯ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে মধ্যরাতে কনসার্টে শব্দদূষণের সময় অনুরোধ জানায় জামেয়া দারুল আরকাম মাদরাসার পরীক্ষার্থীরা। শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলার জন্য শিক্ষার্থীদের ভেতরে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে তাদের উপর ওপর পুলিশের কিছু অতি উৎসাহী সদস্য বর্বরোচিত হামলা করে গুরুতর আহত করে। ঘটনা পরবর্তী সময়ে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে অভিযোগ প্রমাণিত তিনজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে। কিন্তু একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত তথ্য আড়াল করে একপাক্ষিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা করছে কিছু মিডিয়া।
তিনি বলেন, পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীরা জানায়, ডিআইজির আগমন উপলক্ষে আয়োজিত জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিকট শব্দ বন্ধ করতে মাদরাসার ছাত্ররা অনুরোধ জানালে পুলিশ প্রথমে সাউন্ড কমিয়ে দিলেও পরবর্তীতে তা আবার বাড়িয়ে দেয়। সকালেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থাকায় ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে পুলিশ লাইন্সের মূল ফটকে উপস্থিত হলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। ছাত্ররা কোনো বিশৃঙ্খলা বা জোরপূর্বক প্রবেশের উদ্দেশ্যে সেখানে যায়নি।
তিনি বলেন, ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে অনুরোধ জানানোর মাঝখানেই আকস্মিকভাবে পুলিশ লাইন্সের মেইন গেট আটকে দেওয়া হয়। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই নিরস্ত্র কোমলমতি ছাত্রদের ওপর চারপাশ থেকে অতর্কিত হামলা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে নিরস্ত্র ছাত্রদের ওপর অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে মাওলানা আশরাফ মাহদি বলেন, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মাদরাসা ছাত্রদের সমস্ত দাবি মেনে নেওয়ায় এবং কর্তব্যরত অভিযুক্ত তিন সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করায় আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে, ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগের ভিত্তি ছিল। অথচ এই সত্য আড়াল করে মূলধারার গণমাধ্যমের একটি অংশ সুপরিকল্পিতভাবে ‘একপাক্ষিক মিডিয়া ফ্রেমিং’ করে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা গণমাধ্যমকর্মীদের আহ্বান জানাই, তারা যেন সরেজমিনে এসে প্রকৃত ঘটনা জেনে আরো দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ প্রচার করেন।
দারুল আরকাম মাদরাসার মুহতামিম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপির নেতারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


