ভারতের বাধায় ৪ বছর মসজিদ পুনর্নির্মাণ বন্ধ

উপজেলা প্রতিনিধি, বিয়ানীবাজার (সিলেট)

ভারতের  বাধায় ৪ বছর মসজিদ পুনর্নির্মাণ বন্ধ

দুই শত বছরের পুরোনো মসজিদ পুণনির্মাণে বাধা দিচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ফলে চার বছর থেকে বিয়ানীবাজারের গজুকাটা সীমান্ত এলাকায় ওই মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

বিষয়টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র সদরদপ্তরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ নিয়ে বিজিবি-বিএসএফ কয়েক দফা বৈঠক হলেও মসজিদ নির্মাণে সম্মত হয়নি ভারতীয়রা। স্থানীয় মুসল্লীরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কোনো মতে নামাজ আদায় করেন।

বিজ্ঞাপন

সীমান্ত আইনানুগ ১৯৭৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় বাহিনী জিরো লাইনের ১৫০ গজের ভেতরে প্রবেশ করে কোনো ধরনের বাধা প্রদান করতে পারে না। এরপরও ভারতীয়রা নো-ম্যান্স ল্যান্ডের ১৫০ গজের মধ্যে নির্মিত ২০০ বছরের পুরোনো মসজিদ পুনর্নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করছে। এ নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ করলেও প্রায় দুই বছর থেকে আর কেউ কথা বলছে না। যদিও বিয়ানীবাজারের বিজিবি-৫২ ব্যটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হাসান পিপিএম বলেন, কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মসজিদের ছাদ ক্ষয়ে রড বেরিয়ে ছিল। সেখানে নামাজ পড়া ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।

দুবাগ ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নুল ইসলাম বলেন, মসজিদ নির্মাণ নিয়ে উপরেও জানানো হয়েছে। তবে কোনো কাজ হয়নি। এটা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন।

ওই এলাকার বাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আফতাব উদ্দিন জানান, চার বছর আগে আমরা গ্রামবাসীরা ব্রিটিশ আমলে তৈরি ২০০ বছরের পুরোনো মসজিদটি পুনর্নির্মাণ সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বিজিবির সহযোগিতা চাই। তখন বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির বৈঠক হয়। বৈঠকে মসজিদ নির্মাণে তাদের কোন আপত্তি নেই জানানোর পর আমরা চাঁদা তুলে কাজ শুরু করি।'

তিনি জানান, আস্তে আস্তে ফাউন্ডেশন আর পিলারের কাজও শেষ হয়। কিন্তু ছাদের কাজ শুরু করতে গেলে বিএসএফের সদস্যরা এসে বাধা দেয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র জানায়, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ মসজিদ নির্মাণে বাধা দেবে না বলে বিজিবি’কে মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করলেও সেখান থেকে তারা সরে গেছে।

বিয়ানীবাজারের বিজিবি-৫২ ব্যটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হাসান পিপিএম জানান, মসজিদ পুনর্নির্মাণ নয়, বর্ধিতকরণের কাজে বাধা দিয়েছে বিএসএফ। আমরা অনেকদিন থেকে চেষ্টা করছি। এসব জায়গায় কোনো স্থাপনা নতুন করে নির্মাণ করতে হলে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার হয়ে ওঠে।

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: