প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার পাশাপাশি আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। আমরা এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলব, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।
শনিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শক্তিশালী প্রামীণ অর্থনীতি মানে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করছে সরকার।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারের ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সরকার এখন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সরকার প্রধান বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’-এর মাধ্যমে জনগণের জন্য বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও সেবা আরও সহজলভ্য করা হবে। ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রয়োজন। শুধু রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নয়, এই সংকটের মূল কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে। কারণ যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এই সংলাপে ১০০টির বেশি দেশের প্রায় দেড় হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এবারের অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন বক্তা থাকবেন। সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারা এবং মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন।
এবারের সংলাপের প্রতিপাদ্য ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স, ফিউচার্স: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’। বাংলায় এর ভাবার্থ—‘পুনর্লিখিত এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার নতুন পথচলা’।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


