আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই

স্টাফ রিপোর্টার

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জাতৗয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সন্মাননা গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার নেই সেই দেশ কখনোই একটি গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র হতে পারে না বা হয়ে উঠতে পারে না। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাটতে শুরু করেছে। এই গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

এই ন্যায়বিচার সবার জন্যই প্রযোজ্য। একজন মানুষও যাতে অর্থের অভাবে এক্সেস টু জাস্টিস থেকে বঞ্চিত না হয়। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার লিগালি কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। একজন ভুক্তভোগী টাকার অভাবে আইনজীবী সহায়তা নিতে পারবে না।

এমনটা যেন না হয় সেটি সরকার চেষ্টা করবে সর্বোতভাবে নিশ্চিত করতে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান নয় এমন মানুষদের জন্য এক্সেস টু জাস্টিস নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ন্যায়বিচারের কথা শুধু আইনের বইয়ে নয়। এটি প্রতিটি মানুষের জীবনেই সত্য এবং বাস্তব হয়ে উঠুক। এটি বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। ন্যায়বিচার কখনোই কেবল আদালত কেন্দ্রিক নয়, কোন প্রক্রিয়া নয়। এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ। যা রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অবশ্যই প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়া সারাদেশে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি সেল ব্র্যাককে মনোনীত করা হয়। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পত্র ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় মানুষ সমস্যা হলে প্রাথমিকভাবে সঠিক পরামর্শ না পাওয়ার কারণে একদিকে সাধারণ বিরোধ বড় হয় এবং পরবর্তীতে তা জটিল রূপ ধারণ করে। ফলে অনেক সময় মানুষ বিচার বিমুখ হয়ে যায় কিংবা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়।

সুতরাং মানুষ যেন সহজে প্রাথমিক আইনি পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের লিগাল এইড হেল্পলাইন আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ব্যক্তিগতভাবে একজন নাগরিক হিসেবে আমি সেটি আশা করি।

প্রতিটি মানুষের মনে এমন বিশ্বাস থাকতে হবে যে জনগণের যেকোনো প্রয়োজনে রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে। লিগাল এইড সেই বিশ্বাসেরই একটি প্রতিফলন বলে আমি বিশ্বাস করি। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলি। যেখানে ন্যায় বিচারই হবে শেষ কথা আমাদের। আমি জাতীয় আইনগত সহায়তার উদ্যোগের সার্বজনীন সাফল্য কামনা করি।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন