সরকারি দলের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণাকে সময়োপযোগী ও আশাজাগানিয়া পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, এ উদ্যোগ দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। একই সঙ্গে এ পদক্ষেপের পরিপূর্ণ ও টেকসই সুফল অর্জনের লক্ষ্যে রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনি ইশতেহার, জুলাই সনদ ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে একটি সমন্বিত জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গণরায়ের মূল লক্ষ্য ছিল একটি সুশাসিত, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। এক্ষেত্রে বিপুল জনরায় নিয়ে সদ্য ক্ষমতাসীন জোট তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রচারসহ বিভিন্নভাবে জনগণের কাছে প্রদত্ত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিকসহ যতগুলো অঙ্গীকার করেছে, তার কার্যকর ও ফলপ্রসূ বাস্তবায়নের অপরিহার্য পূর্বশর্ত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ।
এক্ষেত্রে সরকারি ও জনপ্রতিনিধিত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সদিচ্ছা ও প্রয়াস থাকলেও কার্যকরভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো প্রতিশ্রুতিই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন যেমন সম্ভব হবে না, তেমনি সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের বাস্তব সুফলও জনগণের কাছে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছবে না। বরং উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয়খাত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, দলীয়করণ, ঘুস, করফাঁকি ও অর্থপাচারের ঝুঁকি থেকেই যাবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার ও জাতীয় সংসদের দুর্নীতিবিরোধী প্রত্যয়ের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জুলাই সনদের ৭৪ ধারা অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সব জনপ্রতিনিধির নিজ ও পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণী বার্ষিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বেতনভুক্ত সব সরকারি কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট জনবলদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য করার দাবি জানায় টিআইবি।
সংস্থাটি মনে করে, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করার ঘোষণা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনার প্রতিফলন এবং এটি রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ। একই সঙ্গে রাষ্ট্র মেরামতে ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনি ইশতেহার, জুলাই সনদ ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
তিনি আরো বলেন, সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশলে সরকারি জোটসহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ও সংসদের বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সব রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও খাতের দায়িত্ব, তথা সার্বিকভাবে জনগণের ভূমিকা পালনের সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

