আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ঈদে ঢাকা ছাড়বেন দেড় কোটি মানুষ

অতিরিক্ত ভাড়া নিলে বাসের রুট পারমিট বাতিল: সরকারের সিদ্ধান্ত

বিশেষ প্রতিনিধি

অতিরিক্ত ভাড়া নিলে বাসের রুট পারমিট বাতিল: সরকারের সিদ্ধান্ত

এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে শুধু রাজধানী থেকে দেড় কোটির মতো মানুষ গ্রামে যাবেন। অল্প সময়ের মধ্যে এ বিপুল পরিমাণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরমধ্যে রয়েছে নির্ধারিত হারের বেশি ভাড়া নিলে যানবাহনের রুট পারমিট বাতিল, ঈদের দিনসহ আগের ও পরের ৭দিন মহাসড়কে ভারি যানবাহন চলাচল করবে না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ ও সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অধিকসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত কঠোর তদারকিতে থাকবে। বৃহস্পতিবার সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত আন্ত: মন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এ সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এসময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ করিডোরসমূহ এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় সড়কসমূহের মেরামত ও সংস্কারকরণ কাজ ঈদের ১০ দিন আগে শেষ করতে হবে।

তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা দেশে যানজটের জন্য ২০৭টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা আগে থেকেই এসব জায়গায় ব্যবস্থা নেবো। এছাড়াও ঢাকার সদরঘাট, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া এই পাঁচটি টার্মিনালে প্রয়োজনীয় সিসিটিভি ও সার্চ লাইট স্থাপন এবং বিআরটিএ ও পুলিশ কন্ট্রোলরুমের সাথে তা যুক্ত করা হবে। উক্ত টার্মিনালগুলো যেন এ বিভাগ থেকে মনিটরিং করা যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

'উপজেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটি', 'জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটি' ও 'মেট্রোপলিটন সড়ক নিরাপত্তা কমিটি' সড়ক ও মহাসড়কে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার নিমিত্ত ঈদের পূর্বে সভা করে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিআরটিএ, পুলিশ কমিশনার, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সওজ অধিদপ্তর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

ছেড়ে যাওয়া ও আগত মোটরযানের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করা এবং মোটরযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করার বিষয়ে বিশেষ তদারকি করা হবে। কেউ ভাড়া বেশি নিলে ওই পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের সকল বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং সড়কপথে চুরি ছিনতাই, পকেটমার, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও ডাকাতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সড়কে লক্কড়-ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধকরণ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এমন কোনো পরিবহন এবার সড়কে চলতে দেওয়া হবে না। এগুলোর কারণে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মালামাল ও যাত্রী পরিবহন না করা যাবে না। সড়কের উভয় পাশে অস্থায়ী ও ভাসমান বাজার অপসারণ করবে জেলা প্রশাসন। পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন প্রতিরোধ করা হবে। এছাড়াও, টোল প্লাজা যানজটমুক্ত রাখার জন্য সার্বক্ষণিক টিসি বুথ চালু রাখা ও বিআরটিসি-এর স্পেশাল ঈদ সার্ভিস নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ঈদের দিনসহ ঈদের আগের তিন দিন এবং পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরী চলাচল বন্ধ থাকবে। এসময় পচনশীল ও ভোগ্যপণ্যবাহী যানবাহন চলবে। ঈদ উপলক্ষে সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনগুলো ঈদের দিনসহ এর পূর্বে ৭ দিন এবং পরবর্তী পাঁচ দিন সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হবে।

তিনি বলেন, গার্মেন্টসসহ সকল শিল্প, কল-কারখানার কর্মীদের পর্যায়ক্রমে ছুটির ব্যবস্থা করবে মালিক পক্ষ। সড়কের বিভিন্ন সংস্কার ও মেরামত কাজ সাময়িক বন্ধ থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদের এক সপ্তাহ পূর্বে এমআরটি, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণসহ তিতাস, টেলিফোন ইত্যাদির জন্য রাস্তা খোঁড়াখুড়ির কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন