সংসদে নিরাপত্তা চাইলেন নেত্রকোনা ৫ আসনের জামায়াত এমপি

সংসদ রিপোর্টার

সংসদে নিরাপত্তা চাইলেন নেত্রকোনা ৫ আসনের জামায়াত এমপি

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা তার ওপর হামলার ঘটনা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে নিরাপত্তা দাবি করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার নেতা–কর্মীদেরও নিরাপত্তা চেয়েছেন।

রোববার জাতীয় সংসদে ফ্লোর নিয়ে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা এ দাবি জানান। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মাছুম মোস্তফার ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে। শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের পূর্বধলার আতকাপাড়া এলাকায় গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

হামলা ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, কাজ শেষ করে ফেরার সময় আমি একটি ফিলিং স্টেশনে দেখতে পাই প্রচুর গাড়ির ভিড়। তখন আমি স্বাভাবিকভাবে সেখানে দাঁড়ালাম। ফিলিং স্টেশনে আমার গাড়ি রেখে আমি আনেক মানুষের খোঁজখবর নিলাম।

মাছুম মোস্তফা বলেন, ইতিমধ্যেই মাগরিবের আজান হয়ে যায়। আমি ফিলিং স্টেশনে সেখানে নামাজের জায়গা সেখানে নামাজ পড়তে যাই। এই মুহূর্তে কিছু লোক তারা বিএনপির নাম ধারণ করেছে, তারা সন্ত্রাসী, আমার গাড়ির উপর হামলা চালায়। আমার লোকজন যারা সাউন্ড শুনে আসে তাদের উপরও হামলা করে ।

শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং আমি যে মসজিদে ছিলাম সেই মসজিদে গিয়ে আমাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। মুসল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেন। সেই মসজিদের দরজা ভাঙ্গার জন্য বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তারা দরজার উপর আঘাত করে এবং আমাকে গালিগালাজ করে আমাকে মারার জন্য হুমকি দেয় এবং তারা আমাকে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা করে।

এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি শুনতে পাই যে, সেখানে পেশাদার কিলার দেওয়া হয়েছিল। যাতে আমাকে হত্যা করা হয়। মসজিদের মুসল্লিদের প্রতিরোধের মুখে তারা দরজা ভাঙতে পারে নাই বলে আজকে স্পিকার আপনার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। নাহলে হয়তো আজকে আমার জন্য এখানে শোক প্রস্তাব আনতে হতো।

মাছুম মোস্তফা বলেন, আপনার কাছে আমি আমার নিরাপত্তা চাই। আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমি আমার এলাকার সংগঠনের কর্মীদের নিরাপত্তা চাই। স্পিকার এভাবে আমাকে জনগণ জিজ্ঞেস করেছে যে কি অপরাধে আপনার উপর হামলা করা হলো? আমি অপরাধটা বলতে পারি নাই।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জবাবে বলেন, তিনি পত্রিকায় দেখেছেন এ ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাছুম মোস্তফা জবাবে বলেন, পুলিশ যাদেরকে গ্রেফতার করেছে তাদের মধ্যে একজন শুধু তালিকাভুক্ত আসামি। বাকিরা নিরপরাধ। আজকে নয় জন জামিনে চলে এসেছে। আর যারা আসামি ছিলেন তারা সবাই মিছিল করছেন। তিনি আসামীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানান।

পরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যে ব্যাপারটা ঘটেছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সংসদ নেতা পাশেই বসে আছেন। তিনি আমাকে বলেছেন যে তিনি নিশ্চিত করবেন যেন এটা সুষ্ঠু একটি তদন্ত হয়। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...