প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর নির্দেশনায় হজ ফ্লাইট নির্বিঘ্ন পরিচালনা করা এবং হজ যাত্রীদের সার্বিক সেবা প্রদান করার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সকলে দায়িত্ব পালন করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি মহোদয় হজ ফ্লাইট নির্বিঘ্ন পরিচালন সহ হজযাত্রীদের সব রকমের সেবা প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করেন। মাননীয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়মিত হজ ফ্লাইট সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছেন। সঠিক তদারকি ও মনিটরিং এর কারণে সংশ্লিষ্ট সকলে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন।
হজযাত্রীদের ভ্রমণকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও স্মরণীয় করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উদ্যোগে হজযাত্রীদের মধ্যে বিশেষ Hajj Care Pack বিতরণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ হজযাত্রীদের প্রতি সরকারের আন্তরিকতা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবার উৎকর্ষ এবং হজযাত্রীদের কল্যাণে সরকারের অঙ্গীকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত সহযোগিতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সফলভাবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। দক্ষ পরিকল্পনা, সময়নিষ্ঠ ফ্লাইট পরিচালনা এবং উন্নত যাত্রীসেবার মাধ্যমে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আবারও তার পেশাদারিত্ব, সক্ষমতা ও সেবার উৎকর্ষের স্বাক্ষর রেখেছে।
হজ কার্যক্রম শুরুর আগে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও নির্বিঘ্ন ফ্লাইট পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
১৮ এপ্রিল থেকে ২১ মে ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত ৯৮টি প্রি-হজ ফ্লাইটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩৮,৬৮০ জন হজযাত্রীকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আরামদায়কভাবে সৌদি আরবে পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে ঢাকা বিমানবন্দরে সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের হজযাত্রীসহ ৭৬,১৯৭ জন যাত্রীর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও অন্যান্য যাত্রীসেবা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।
৩০ মে থেকে ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত পোস্ট-হজ কার্যক্রমে ১০৪টি পোস্ট-হজ ফ্লাইটে ৩২,২৫৬ জন এবং ১২টি নিয়মিত (Scheduled) ফ্লাইটে আরও ২,২০৮ জন হজযাত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফলে সর্বমোট ৩৪,৪৬৪ জন হজযাত্রীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা হয়েছে। পোস্ট-হজ কার্যক্রমের সূচনায় আগত হজযাত্রীদের ফুল ও পবিত্র জমজমের পানি প্রদান করে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।
হজযাত্রীদের সেবা আরও উন্নত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উদ্যোগে Hajj Care Pack বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ (Makkah Route Initiative), 'লাব্বাইক (Labbayk)' ডিজিটাল অ্যাপ, স্মার্ট লাগেজ ট্র্যাকিং, হজ প্রিপেইড কার্ড, ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা, হজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার এবং অন্যান্য আধুনিক সেবার মাধ্যমে হজযাত্রীদের যাত্রা আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করা হয়েছে।
২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মাত্র ৩৬টি ডেডিকেটেড চার্টার্ড ফ্লাইট এবং ১৬৮টি নিয়মিত (Scheduled) ফ্লাইটের সমন্বয়ে অপারেশন পরিচালনা করে অতিরিক্ত ১,৩০০ টনের বেশি কার্গো এবং প্রায় ২৩,৫০০ জন সাধারণ যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে পুরো হজ মৌসুমে কোনো উল্লেখযোগ্য ফ্লাইট বাতিল বা বড় ধরনের সময়সূচি পরিবর্তন ছাড়াই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুটে বিমানের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ধারাবাহিকতা সফলভাবে বজায় রাখা হয়েছে।
এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিষ্ঠা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ প্রচেষ্টার ফলে দীর্ঘদিনের হজ মৌসুমের পরিচিত সমস্যা—যেমন দীর্ঘ ফ্লাইট বিলম্ব বা মালপত্র জট—এবার কার্যত পরিলক্ষিত হয়নি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সকল হজযাত্রী এবং হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতাকারী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অংশীজনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও আরও নিরাপদ, সময়নিষ্ঠ ও বিশ্বমানের সেবা প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

