জাতিসংঘে জাইমার নিয়োগে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: মাহ্দী আমিন

জাতিসংঘে জাইমার নিয়োগে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: মাহ্দী আমিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়োগের সঙ্গে সরকারের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, জাইমা রহমান নিজের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে জাতিসংঘে পি-৩ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এ পদের জন্য পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন এবং জাইমা রহমানের পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে সেটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কবরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং নিউইয়র্ক সফরের সার্বিক বিষয় তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

জাইমা রহমানের নিয়োগের বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘তিনি নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে পি-৩ পজিশনে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ পদের জন্য পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় এবং তার যে প্রোফাইল, তার সঙ্গে এটি ম্যাচ করে। সুতরাং নিজ যোগ্যতা ও মেধায় একজন মানুষ জাতিসংঘে তার মতো করে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এটি তার নিজের পেশাগত ক্যারিয়ারের বিষয়। এর সঙ্গে সরকারের ন্যূনতম কোথাও কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে কিংবা পারিবারিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে—এমন একটি ধারা দেখা গেছে। বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে সে ধরনের কোনো বিষয় নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, স্বনির্ভর, আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে বর্তমান সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

মাহ্দী আমিনের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় নেতৃত্ব বিশ্বনেতাদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ আত্মমর্যাদাশীল অবস্থান তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বার্তা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির আলোকে বিএনপি বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন, আধুনিক বাংলাদেশ গঠন এবং জনকল্যাণমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণে সরকারের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও নীতিগুলোও প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেছেন।

একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ও শান্তিকামী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা কী হতে পারে, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন বলে জানান মাহাদী আমিন। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এ অবস্থান অত্যন্ত আন্তরিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, মাত্র চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ১১টি বৈঠক করেছেন। এর বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান উপস্থিত ছিলেন।

মাহাদী আমিন বলেন, এসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তার দাবি, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী প্রধানমন্ত্রী এমন একজন নেতা, যার রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ। এ কারণে বিশ্বনেতাদের কাছে তিনি সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পাওয়া সম্মান ও মর্যাদা বাংলাদেশের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মাধ্যমে আগের সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ একটি ভিন্ন অবস্থানে পৌঁছেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, বর্তমান সরকার একটি কঠিন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। বাংলাদেশে গ্যাস, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে—এটি সত্য। তবে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই এসব পণ্যের দাম বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনো যথেষ্ট কম। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি ও বাজার ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ধাপে ধাপে দাম বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও যতটা সম্ভব দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, জনগণের ওপর চাপ ও কষ্ট যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখার চেষ্টা সরকারের অব্যাহত রয়েছে। বাজার ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও শান্ত করার প্রয়োজন হলে সরকার সে অনুযায়ী উদ্যোগ নেবে এবং এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন