দুর্নীতি করলে আমারো ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

দুর্নীতি করলে আমারো ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দুর্নীতির ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। আমি নিজে হলেও ছাড় পাবো না, আমারো ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। কাজেই দুর্নীতির বিষয়ে আমরা অত্যন্ত কড়া অবস্থানে আছি।

বুধবার ঢাকার সাভারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

সমাজকল্যাণমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, যে প্রকল্পে দুর্নীতির প্রশ্ন তুলেছেন, এখানে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ক্রয়প্রক্রিয়ায় যাওয়া হয়নি। শুধু বিল্ডিং নির্মাণের কাজ হচ্ছে এবং সেটার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টকে (গণপূর্ত অধিদপ্তর)। এটা সরকারি সংস্থা। এখানে কোনো লোক নিয়োগ হয়নি, আসবাবপত্র কেনা হয়নি, অন্য কোনো আইটেমও কেনা হয়নি।

তিনি বলেন, তবে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির ব্যাপারে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্সে’ আছে। কোনো দুর্নীতি আমরা সহ্য করবো না—সামনে হোক বা পেছনে হোক। আপনাদের কাছে যদি কোনো তথ্য থাকে, অবশ্যই জানাবেন, আমরা তদন্ত করবো। কেউ দুর্নীতি করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরাও করবো না, কাউকেও করতে দেবো না। তবে এফিশিয়েন্সির (দক্ষতা) বিষয়টি মানুষভেদে ভিন্ন হতে পারে। যেহেতু প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৬ থেকে ১০ শতাংশ, তাই আপনারা যে দুর্নীতির কথা বলেছেন, সেটা আমরা খতিয়ে দেখবো।

এ সময় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক গঠন ও মানসিক বিকাশে এবং বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে সমাজের একটি গ্রহণযোগ্য স্থানে নিয়ে যেতে চাই। বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ঢাকার সাভারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সে থাকবে বিভিন্ন দেশের মতো আধুনিক স্পোর্টস লার্নিং, মেডিকেল ফিজিওথেরাপি, জিমনেসিয়াম, সুইমিং পুল, মসজিদ, ইনডোর ও আউটডোর গেমিংয়ের ব্যবস্থা। বর্তমান জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনের অঙ্গীকার ছিল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের একটি গ্রহণযোগ্য স্থানে নিয়ে যাওয়া। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা একটি মানবিক ও ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক) বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়ে—শারীরিক প্রতিবন্ধী, মানসিক প্রতিবন্ধী, সাইকোলজিক্যাল ও ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীসহ প্রায় ১১ ধরনের প্রতিবন্ধী রয়েছে। এই প্রতিবন্ধীদের খেলাধুলার জন্য সারা পৃথিবীতে আলাদা অলিম্পিক হয়, যেটাকে বলা হয় প্যারা অলিম্পিক। আমাদের দেশে প্রতিবন্ধীদের যেন উপজেলা, জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে খেলাধুলায় দক্ষ করে তৈরি করা যায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ হচ্ছে। আমাদের দেশের অনেক প্রতিবন্ধী আন্তর্জাতিক প্যারা অলিম্পিক খেলায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে। অনেকে স্বর্ণপদকও জয় করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে এমনভাবে গড়ে তুলতে, যাতে সমাজে তারা গ্রহণযোগ্য অবস্থানে যেতে পারে, দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এজন্য স্কুল, শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি তাদের শারীরিক গঠন ও খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করার জন্য এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি নেওয়ার পর মাঝখানে কিছু জটিলতার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে যে নির্বাচনি কমিটমেন্ট (অঙ্গীকার) ছিল, সে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা একটি মানবিক ও ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ গড়তে চাই। সমাজের অন্যান্য ছেলেমেয়েরা যেভাবে গড়ে ওঠে, আমরাও চাই আমাদের প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরাও একইভাবে গড়ে উঠুক।

মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় পর্যায়ে আয়োজনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রচলিত খেলাধুলার পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি (সহশিক্ষা কার্যক্রম), আউটডোর ও ইনডোর প্লেগ্রাউন্ড থাকবে, যাতে তারা প্রশিক্ষণ নিতে পারে এবং এটি যেন আশপাশের দেশের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেই লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...