১০ হাজার টাকার পাওনা ফেরত চাওয়ায় ডেকে নিয়ে হত্যা, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

১০ হাজার টাকার পাওনা ফেরত চাওয়ায় ডেকে নিয়ে হত্যা, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

মাত্র ১০ হাজার টাকার পাওনা আদায় করতে গিয়েছিলেন পুরোনো ব্যবসায়িক পরিচিতের কাছে। কিন্তু সেই টাকাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল সবজি বিক্রেতা মো. রাজু (৪৮)-এর প্রাণ।

রাজধানীর হাতিরঝিল থানার বড় মগবাজারের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিচিত ব্যবসায়ী বজলুর রহমান এবং তার স্ত্রী সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বরিশালের কাঁঠালিয়া উপজেলার বাসিন্দা লোকমান হাওলাদারের ছেলে রাজু দীর্ঘদিন রাজধানীতে সবজি ব্যবসা করতেন। একসময় বড় মগবাজার এলাকায় বজলুর রহমানের সঙ্গে একই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের সূত্র ধরে বজলুরের কাছে রাজুর ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি বারবার তাগাদা দিচ্ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, সেই পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে রাজুকে বড় মগবাজারের বাসায় ডেকে নেন বজলুর রহমান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অভিযুক্তরাই প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোন্তারছির বিল্লাহ জানান, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি সাথী আক্তার ও তার স্বামী বজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রাজুর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তার বোন শাহানা বেগম লাশ গ্রামের বাড়ি বরিশালের কাঁঠালিয়া উপজেলার উদ্দেশে নিয়ে যান।

শাহানা বেগম বলেন, “আমার ভাই অনেক দিন ধরে টাকার জন্য ঘুরছিল। বজলুরের কাছে ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।”

স্বজনরা জানান, রাজু ছিলেন এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। প্রায় সাত থেকে আট বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান। এরপর সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কঠোর পরিশ্রম করে সবজি বিক্রি করেই সংসার চালাতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন