আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জুলাই গণহত্যায় পুলিশের বিচারে অগ্রগতি

এম এ নোমান

জুলাই গণহত্যায় পুলিশের বিচারে অগ্রগতি

জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলায় অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৩০২টি নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হচ্ছে।

প্রতিটিতে ১০ থেকে ৮০ পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। শিগগির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নথিপত্র ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করে আমার দেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

ওই কর্মকর্তার দাবি, গত বছর ট্রইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এসব মামলা স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার, কিন্তু বিভিন্ন মহলের চাপে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে দেরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, সারা দেশের বিভিন্ন থানা ও আদালতে জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৩৯৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলা থেকে যাচাই-বাছাই করে বিচার হওয়ার মতো মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলেও আমরা আইন ঘাঁটতেই বছর পার করে দিয়েছি। ৩০২টি মামলার তালিকা আমরা বেশ আগেই চূড়ান্ত করে রেখেছি। কর্তৃপক্ষ মামলাগুলো স্থানান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে।

মামলাগুলো স্থানান্তরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফাইন্ডিংসে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ নাগরিকদের অভ্যুত্থান যখন দেশজুড়ে বিস্তৃত হয়, তখন রাষ্ট্রের দমনযন্ত্র হিসেবে সামনে আসে পুলিশ। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন মোকাবিলার বদলে রাজধানী থেকে গ্রামগঞ্জ--সর্বত্র লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, শটগান ও লাইভ অ্যামুনিশনের নির্বিচার ব্যবহার শুরু করে পুলিশ। একই ধরনের অতিরিক্ত ও প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের এ প্যাটার্ন সারা দেশে বারবার পুনরাবৃত্তি হতে থাকায় আন্দোলন দ্রুত রক্তক্ষয়ী রূপ নেয় এবং পুলিশের ভূমিকা ঘিরে দেশ-বিদেশে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম নেয়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়ে প্রাণ বাঁচাতে ভারতে পালিয়ে যান।

আন্তর্জাতিক তদন্তে পুলিশের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর বলছে, গণঅভ্যুত্থান দমন করতে গিয়ে সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিহতদের বড় একটি অংশকে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতেই প্রাণ হারাতে হয়েছে। আরো উদ্বেগজনক হলোÑওই হত্যাকাণ্ডের অন্তত ১২-১৩ শতাংশ ছিল শিশু, যা আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকার ভয়াবহতা ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র স্পষ্ট করে।

সংস্থাটির মতে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এক হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী।

জাতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও ওই সময়ের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। ২০২৪ সালের ১৬ থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যেই কয়েকশ মানুষ নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ হয়। আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধু ১৯ জুলাই নিহত হয় ১৪৮ জন, যাদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে।

পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলির পরিস্থিতি

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গণঅভ্যুত্থান দমনে পুলিশ শুধু টিয়ারগ্যাস বা রাবার বুলেটেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে তারা লাইভ বুলেটসহ সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছে। পুলিশ ও র‌্যাবের এ অস্ত্র ব্যবহার আন্দোলনকে দ্রুত রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ দেয়।

বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে গুলি চালায়। ভিডিও ফুটেজ ও আলামত বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ওই এলাকায় পুলিশ শুধু অবস্থানরত জনতার ওপরই নয়; পালিয়ে যাওয়া মানুষদের দিকেও নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকে, যা পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তোলে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ৫২ জন প্রতিবাদকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, যা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার অন্যতম নজির হিসেবে চিহ্নিত। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও রামপুরা ছিল সবচেয়ে রক্তাক্ত এলাকা। মাত্র ২১ দিনের মধ্যে শুধু ঢাকায়ই প্রায় ৪২৬ জন নিহত হন, যাদের বড় একটি অংশ পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। আন্দোলন দমনে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিকল্পিতভাবে ‘হেডশট’ ব্যবহার করে। এতে হত্যাকাণ্ড আরো নৃশংস রূপ নেয়। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৫৭ জন মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মার যান।

জাতিসংঘের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী রাইফেল, সরকারি শটগান ও বিভিন্ন ধরনের লাইভ অ্যামুনিশন ব্যবহার করে। শান্তিপূর্ণ ও সহিংসÑউভয় ধরনের জমায়েতেই এ বলপ্রয়োগ করা হয়, যা আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পুলিশ সারা দেশে তিন লাখ পাঁচ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে শুধু ঢাকায়ই ব্যয় হয় ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড, যা আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্দেশনা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা

গণঅভ্যুত্থান দমনে পুলিশের প্রাণঘাতী ভূমিকা যে কেবল মাঠপর্যায়ের সিদ্ধান্ত ছিল না, তার ইঙ্গিত মিলেছে নির্দেশনা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রকাশিত একাধিক অনুসন্ধানে। বিবিসির তদন্তে উঠে এসেছে, ১৯ জুলাই পুলিশের গুলি চালানো ছিল পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনার ফল, এটি কোনো তাৎক্ষণিক বা স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ওই সহিংস অভিযানের পেছনে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনে আরো স্পষ্ট করা হয়, আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ওই আচরণ ছিল একটি দমনমূলক নীতির অংশ, যেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশ অনুসরণ করেই পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী নিরস্ত্র জনতার বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত ও প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করে।

একই ধরনের তথ্য উঠে এসেছে জাতিসংঘের রিপোর্ট ও একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, এ ধরনের ‘ওপেন ফায়ার’ বা প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ ছিল উপরের স্তর থেকে আসা নির্দেশনার ফল, যা কোনোভাবেই শুধু মাঠপর্যায়ের সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। সংস্থার তদন্তে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ফাঁস হওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাহী কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

শেখ হাসিনার ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে আরো গুরুতর তথ্য সামনে আসে। ওই অডিওতে ভারতে পালিয়ে যাওয়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়Ñপ্রতিবাদীদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালাতে হবে। তথ্যগুলো জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দমনে পুলিশের ভূমিকার সঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নির্দেশনার সরাসরি যোগসূত্রের দিকেই ইঙ্গিত করে।

মামলার অবস্থা

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনায় সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৪০০টি মামলা দায়ের করা হয়। ওই সব মামলায় সাবেক আইজিপিসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের অন্তত ৬১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাকে আন্দোলন দমনে পুলিশের সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশিত মামলার অভিযোগপত্রগুলোয় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যা, নির্যাতন ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের একটি অংশ এখনো পলাতক, যা বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সব মামলা ও গ্রেপ্তারের খবর মূলত ২০২৫ সালে প্রকাশ পেতে শুরু করে, যখন আন্দোলন-পরবর্তী তদন্ত ও অভিযোগ আনুষ্ঠানিক রূপ নেয়। শুধু তাই নয়, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ আমলে নেয় সরকার

গণঅভ্যুত্থান দমন করতে গিয়ে পুলিশের নিঃশর্ত ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হত্যাকাণ্ডগুলো ছিল একটি সুসংগঠিত ও সমন্বিত দমন কৌশল, যা রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জ্ঞানে ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনা ‘এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং অনাবশ্যক বলপ্রয়োগের স্পষ্ট উদাহরণ।

জাতিসংঘের রিপোর্টে আরো উল্লেখ আছে, আন্দোলন দমনে নির্বিচার গ্রেপ্তার, গোপন স্থানে আটক, নির্যাতন ও অত্যাচার চালানো হয়, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর চিত্র তুলে ধরে।

ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে শিশুরাও ছিল এবং নির্দিষ্টভাবে বলপ্রয়োগের সময় সাধারণ পথচারী ও নিরীহ নাগরিকরাও গুলিতে মারা যান। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কান্ট্রি ফোকাস প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী শান্তিপূর্ণ প্রাক্কালে সহিংসতা উসকে দিতে লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস এবং ওপেন ফায়ার ব্যবহার করে। এসব আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের আলোকে স্পষ্ট হয়, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের ভূমিকা শুধু দমনমূলকই নয়; মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে গুরুতর আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করে।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের ভূমিকা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নয়; বরং রাষ্ট্রীয় দমননীতির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল, যা দেশের আইনের শাসন ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গভীর সংকট তৈরি করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এসব প্রতিবেদন ও উদ্বেগকে আমলে নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ ন্যায়বিচারের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম। আমার দেশকে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় হয়েছে, যেখানে পুলিশের সাবেক এক মহাপরিদর্শকও আসামি ছিলেন। শিগগির আরেকটি মামলার রায় হবে। এছাড়া আরো কয়েকটি মামলার বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যেসব মামলা ট্রাইব্যুনালে রেফার (স্থানান্তর) করা হবে, সেগুলোর বিষয়ে আইন অনুযায়ী যথাযথ পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এ নৃশংসতার মূল পরিকল্পনাকারী এবং দোষীদের সরাসরি বিচারের আওতায় আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অতীতের ট্রাইব্যুনালে ব্যবহৃত সাক্ষ্যপ্রমাণের মানের অনুকরণ করতে চাই না আমরা। আমরা চাই মূল অপরাধীরা আইনের আওতায় আসুক এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।

পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো নিষ্পত্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে। একই ভাবে পুলিশ বাহিনীকেও দায়মুক্ত করা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। দেশে দুই লাখের বেশি পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। কয়েকশ পুলিশ সদস্যের অপরাধের দায় পুরো বাহিনীর ওপর বর্তায় না। জুলাই গণহত্যার দায় থেকে পুলিশ বাহিনীকে মুক্ত করতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। জনগণের প্রতি এটি সরকারের একটি প্রতিশ্রুতিও।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন