নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৬১ নবীন কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোর্টার

নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৬১ নবীন কর্মকর্তা

মাতৃভূমির সুরক্ষা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মহান ব্রত নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রায় যুক্ত হলো ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা।

রোববার ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে মিডশিপম্যান ২০২৩-বি এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৬-এ ব্যাচের গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। ওই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০২৩-বি ব্যাচের ৫৪ জন মিডশিপম্যান এবং ২০২৬-এ ব্যাচের ০৭ জন সরাসরি কমিশন্ড অফিসার-সহ মোট ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন।

নৌবাহিনী প্রধান তার ভাষণে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর পরিচালিত শিপইয়ার্ড, ডকইয়ার্ড ও সিএনআরডি দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং নিজস্ব সক্ষমতায় সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম ও অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। লার্জ পেট্রোলক্রাফট, এলসিটি, সার্ভে ভেসেল, অরপিভি, ডাইভিং বোট ও অন্যান্য নৌযান নির্মাণের পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম দেশ হতে হেলিকপ্টার, আনম্যানড এয়ারক্রাফট, আধুনিক যুদ্ধজাহাজ এবং বিভিন্ন সক্ষমতার সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম সংযোজন চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় শোর-বেইজড সারফেস সার্ভেইলেন্স সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সেন্টার, অত্যাধুনিক এন্টি-ড্রোন সিস্টেম ও জ্যামার স্থাপনের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা, সমুদ্রপথে অপরাধ দমন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান, সংকটকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় দায়িত্ব পালন ছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে চলেছে। তিনি নবীন কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের যে-কোনো প্রয়োজনে আত্মনিবেদনে সদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, সংসদ সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, বিভিন্ন দেশের ডিফেন্স ও মিলিটারি অ্যাটাশে, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে ৫ জন নারী এবং ২ জন বিদেশি কর্মকর্তা রয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন