রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ও আশপাশে সাংবাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য এবং ডাকসু নেতাদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
শুক্রবার এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংগঠনটি জানায়, এই সহিংস হামলায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে এইচআরএসএস উল্লেখ করেছে যে, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা কেবল ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি স্বাধীন গণমাধ্যম, তথ্য জানার অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। একইসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত ছাত্রনেতাদের ওপর হামলাকে গণতান্ত্রিক চর্চা, ছাত্ররাজনীতি এবং ক্যাম্পাসে সহনশীল পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে সংগঠনটি।
ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে এইচআরএসএস জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে থানার মতো নিরাপদ স্থানে এমন সহিংসতা জননিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত। নাগরিকরা যদি থানার ভেতরেও নিরাপত্তা না পান, তবে তা সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তোলে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিচারিক তদন্ত নিশ্চিত করাসহ কয়েকটি দাবিও জানিয়েছে এইচআরএসএস। সংগঠনটি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, আহত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মতবিরোধের সমাধান কখনোই সহিংসতা হতে পারে না। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তির পথ হওয়া উচিত সংলাপ ও যুক্তি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার ঘটনা আরও বাড়বে এবং সমাজে দায়মুক্তির সংস্কৃতি জেঁকে বসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে এইচআরএসএস। সংগঠনটি অবিলম্বে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

