প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে ব্যবসায়ীরা

নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার

নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূল ফটকে সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ চাঙা করা এবং শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের এই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের সরকারি সহায়তার কথা বলেন তারা।

ব্যবসায়ীরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ই-ভিসা চালুর দাবি জানিয়েছেন উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের ঝামেলা ছাড়াই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে সহজে বাংলাদেশে আসতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, এনবিআর সংস্কার এবং নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আমির খসরু বলেন, মাঝারি উদ্যোক্তাদের রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে লাইসেন্সপ্রাপ্তি সহজীকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্যে গতি আনতে গভীর সমুদ্রবন্দর চালুর আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

অর্থমন্ত্রী জানান, বৈঠকে ব্যবসায়ীদের কী কী সংকট আছে— সেসব বিষয় জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বন্ধ কল-কারখানা চালুর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, এগুলো কীভাবে চালু করা যায়; সরকারি কারখানা যেগুলো বন্ধ হয়েছে, সেগুলো কীভাবে আবার শুরু করা যায় আলোচনা হয়েছে। সার্বিকভাবে নতুন প্রকল্পের বাইরে যেসব পুরোনো প্রকল্প বন্ধ হয়ে আছে, এগুলো চালু করার জন্য আলোচনা হয়েছে এবং এগুলোর সমাধান দিয়ে আমরা আশা করি অনেক প্রকল্প চালু করা হবে।

এ বিষয়ে আমির খসরু আরও জানান, বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের নানান সংকটের কথা বিগত দিনে আমরা শুনে এসেছি, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের মুখ থেকে তাদের সমস্যার কথা শুনতে চেয়েছিলেন। তাদের কথাগুলোর একটা নোট নেওয়া হয়েছে। অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে, অনেক পেন্ডিং আছে, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসুর মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির,বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহ চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। আর ব্যবসায়ীদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ জব্বার, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, এপেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মনজুর, বে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের সিইও আহসান খান চৌধুরী, ইনসেপ্টা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মোক্তাদির, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, র‍্যাংগস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানা রউফ চৌধুরী এবং এসিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...