চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আনা হলো খুনি মোজাফফরকে

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আনা হলো খুনি মোজাফফরকে
ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত ও সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আনা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে মিলিটারি পুলিশ (এমপি) এবং আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের (এএসইউ) তত্ত্বাবধানে সামরিক বাহিনীর বিমানে তাকে ঢাকায় আনা হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি আমার দেশকে নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, ঢাকা সেনানিবাসে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এককভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, নাকি সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি পুলিশ কিংবা এসবি এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে কোনো টাস্কফোর্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট অনেকে আমার দেশকে জানিয়েছেন, পলাতক মেজর মোজাফফরকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ইতিহাসের দায়মোচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি নেপথ্য কুশলী যারা রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের অপ্রকাশিত মাস্টারমাইন্ড কারাÑটাস্কফোর্স কিংবা কমিশন গঠনের মাধ্যমে মুজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তা বেরিয়ে আসবে। ফলে দেশের মানুষ জানতে পারবে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ককে কীভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

এর আগে গত শুক্রবার মোজাফফরকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্টের সামরিক আদালতের হেফাজতে নেওয়া হয়। যেহেতু চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্টের কয়েকজন বিপথগামী অফিসারের নেতৃত্বে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল এবং সেখানেই ওই ঘটনার বিচার হয়েছিল তৎকালীন সময়ে, তাই নিয়মানুযায়ী তাকে সেখানে পাঠানো হয়।

এর আগে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গত বুধবার রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বৃহস্পতিবার। ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। পরে ওই ঘটনায় সামরিক আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। মোজাফফর হোসেন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সেনা কর্মকর্তা স্বাধীনতার পর জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে (জেআরবি) কমিশন পান। পরে বিতর্কিত রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীতে একীভূত হলে তিনি সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৮১ সালে তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে সুচতুর মোজাফফর কৌশলে ভারতে পালিয়ে যান। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছিল। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন। সে সময় ‘বিপ্লব সরকার’ এবং ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। ১৯৯৬ সালে তিনি অত্যন্ত গোপনে দেশে ফিরে আসেন এবং বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমল থেকে নির্বিঘ্নে জীবন কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। কললিস্টের সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন