র্যাবের নাম ও কাঠামো বদলে নতুন বাহিনী গঠনের প্রক্রিয়া এগোলেও বর্তমান সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান বিচার চলমান থাকবে।
বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। বলেন, রাজধানীর উত্তরার অঅলোচিত ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা লুটের রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে ৪৮ লাখ টাকা। পাশাপাশি তুরাগের কামারপাড়া ফলের আড়তে চাঁদা তোলার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।
র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও র্যাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে কোনো আইনি শূন্যতা তৈরি হবে না বলে জানান ইন্তেখাব চৌধুরী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন বাহিনী গঠনের জন্য যে আইনের খসড়া করা হয়েছে, তার শেষাংশে র্যাবের আওতায় থাকা সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া আগের আইন অনুযায়ী অব্যাহত রাখার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ফলে র্যাবের সাংগঠনিক পরিচয় পরিবর্তিত হওয়ার কারণে কোনো বিচারাধীন মামলা থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, নতুন বাহিনী কীভাবে পরিচালিত হবে, তার কাঠামো ও কার্যক্রম কী হবে—এসব বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত আইনটি জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। মানুষের পরামর্শ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবে।
র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তদন্ত হয়েছে এবং কিছু বিষয় বিচারাধীন রয়েছে। বিচারিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে র্যাব সহযোগিতা করছে। সরকারের পাশাপাশি বিচার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ীও কাজ করার কথা জানান তিনি। নতুন আইনকে কেবল বাহিনীর নাম পরিবর্তন হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোয় দায়িত্ব, অধীনতা, কার্যক্রম এবং সদস্যদের জবাবদিহির বিষয়গুলো নতুনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। কোনো সদস্য অন্যায় বা দুর্নীতিতে জড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
১ কোটি ২১ লাখ টাকার ছিনতাই, উদ্ধার ৪৮ লাখ
ব্রিফিংয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের অর্থবাহী গাড়িতে ডাকাতির ঘটনাটিও তুলে ধরেন র্যাবের এই কর্মকর্তা। গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএল ফিলিং স্টেশন থেকে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য ১ কোটি ২১ লাখ টাকা একটি ছোট লাল কাভার্ড ভ্যানে করে নেওয়া হচ্ছিল। বিমানবন্দর থানার ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা সশস্ত্র ব্যক্তিরা গাড়িটির পথ আটকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তদন্তে র্যাব জানতে পারে, ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত তেল নিতে যাতায়াতের সূত্রে কাউসার নামের একজন ওই প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে নেওয়ার তথ্য জানতে পারে। পরে কারাগারে থাকা ডাকাত হাকিমের সঙ্গে তার পরিচয়ের সূত্র ধরে পরিকল্পনা এগোয়। হাকিম জামিনে বের হওয়ার পর জলিল মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে তারা ডাকাতির ছক তৈরি করে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে ২ আগস্ট হাকিম, কাউসার ও জলিল মোল্লা ফিলিং স্টেশনের আশপাশ ঘুরে পরিস্থিতি দেখে নেয়। পরে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। ফিলিং স্টেশনের কাছাকাছি অবস্থান করা এক তথ্যদাতা টাকা নিয়ে গাড়ি বের হওয়ার খবর মোবাইল ফোনে অন্যদের জানায়। এরপর ক্রাউন প্লাজার সামনে গাড়িটির ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারী হাকিমকে ১৬ আগস্ট রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, পুলিশের দুটি হ্যান্ডকাফ ও একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে র্যাব। হাকিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট সকালে উত্তরা থেকে কাউসারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ১৮ আগস্ট রাতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে জলিল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কামারপাড়ায় চাঁদা তুলতে গিয়ে ১২ জন আটক
এদিকে তুরাগের কামারপাড়া ফলের আড়তে চাঁদাবাজির অভিযোগে ১২ জনকে আটক করেছে র্যাব। বুধবার (১৯ আগস্ট) ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় চাঁদা হিসেবে আদায় করা ১১ হাজার ২২০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাবের ভাষ্য, কামারপাড়া ফলের আড়তে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ফল কেনাবেচা হয়। আড়তে আসা বিভিন্ন যানবাহন থেকে একটি সংঘবদ্ধ দল নিয়মিত চাঁদা আদায় করছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য পায় বাহিনীটি। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ভ্যান, রিকশা বা কাভার্ড ভ্যান আটকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। র্যাব জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আহাদ শেখ, মুন্না শেখ ও আসিফসহ কয়েকজন ওই এলাকায় চাঁদা আদায়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। গোয়েন্দা নজরদারির পর অভিযান চালিয়ে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত ১২ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—আহাদ শেখ, মুন্না শেখ, শাকিল আহমেদ, আব্দুল কাদের, দেলোয়ার, মাসুম, সাগর আহমেদ, হামিদুর রহমান, ইমরান মোল্লা, সাগর, ফাহেম বাবু ও তাহসিন মোল্লা। তাদের কাছ থেকে ১১ হাজার ২২০ টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে র্যাব।
এক মাসে ১০৪ অস্ত্র উদ্ধার
ব্রিফিংয়ে র্যাবের সাম্প্রতিক অস্ত্রবিরোধী অভিযানের তথ্যও তুলে ধরা হয়। ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০৪টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাব। এসব ঘটনায় ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার অস্ত্রের মধ্যে ৬৫টি দেশীয় এবং ৩৯টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


-d0de66.jpg)