ইসলামে ‘মুজাদ্দিদ’ বা সংস্কারক ধারণা নিয়ে সমাজে প্রচলিত বিভ্রান্তি দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ ইসলামি চিন্তাবিদ ও লেখক আলী হাসান উসামা। তার মতে, কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মৌলিক ও ইতিবাচক সংস্কারের মাধ্যমে জাতিকে পথ দেখালে সেই ব্যক্তিকেও ওই বিষয়ের মুজাদ্দিদ হিসেবে গণ্য করা যায়। সম্প্রতি ‘ইনোভা টকস’ পডকাস্টে অতিথি হিসেবে এসে তিনি এ কথা বলেন।
আলী হাসান উসামা বলেন, আমাদের দেশে একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে প্রতি শতাব্দীতে কেবল একজনই মুজাদ্দিদ আসবেন এবং বিষয়টি যেন কোনো অলৌকিক ঘটনা। অথচ, আভিধানিক ও প্রায়োগিক অর্থে মুজাদ্দিদ হলেন সমাজ বা শাস্ত্রের সংস্কারক। কোনো বিশেষ অঙ্গনে যদি কেউ যুগোপযোগী ও কল্যাণকর সংস্কার আনেন, তবে তাকেও মুজাদ্দিদ বলা যায়।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের কওমি শিক্ষাঙ্গনে ভাষা সংস্কারক হিসেবে মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ এবং হাদিস গবেষণার সংস্কারক হিসেবে মাওলানা আব্দুল মালেকের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন।
কওমি মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষা শিক্ষার উন্নয়ন প্রসঙ্গে উসামা বলেন, অতীতে আরবি ব্যাকরণের কিতাব ফারসি ভাষায় রচিত থাকায় এবং তা উর্দুতে পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের মূল আরবি ভাষা শিখতে চরম জটিলতায় পড়তে হতো। এমনকি দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেও অনেকে সাবলীল আরবি পড়তে বা বুঝতে পারতেন না। এই অচলাবস্থা ভেঙে মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ ‘মাদানি নেসাব’ চালুর মাধ্যমে সরাসরি আরবি ভাষার বিপ্লব ঘটিয়েছেন। ইংরেজি মাধ্যমের মতো এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের শুরুতেই আরবিতে দক্ষ করে তুলেছে, যা শিক্ষাঙ্গনে এক যুগান্তকারী সংস্কার।
অন্যদিকে হাদিস শাস্ত্রের বিশুদ্ধতা যাচাই ও গবেষণায় বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেকের ভূয়সী প্রশংসা করেন উসামা। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে একসময় শাস্ত্রীয় গবেষণার মাধ্যমে সহিহ ও জয়িফ হাদিসের সূক্ষ্ম পার্থক্য নিরূপণের ধারা সীমিত ছিল। মাওলানা আব্দুল মালেক বাংলাদেশে ‘উলুমুল হাদিস’ তথা হাদিস শাস্ত্রীয় গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক বিপ্লব ঘটিয়েছেন এবং একদল দক্ষ গবেষক আলেম তৈরি করেছেন।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত বহু কথা—যেমন ‘দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ’, ‘জ্ঞানের জন্য প্রয়োজনে সুদূর চীনে যাও’ কিংবা ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করো’—হাদিস হিসেবে প্রচারিত হলেও শাস্ত্রীয় দলিলের ভিত্তিতে সেগুলো যে অপ্রমাণিত ও জাল, তা মাওলানা আব্দুল মালেক তার গবেষণার মাধ্যমে জাতির সামনে স্পষ্ট করেছেন। শাস্ত্রীয় এই অনন্য অবদানের কারণেই তিনি সমকালীন হাদিস গবেষণায় একজন অনন্য সংস্কারক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


