সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ

সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ
সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ

অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে নতুন নারীরা নেতৃত্ব ও নিজেদের অধিকার নিয়ে প্রত্যাশিতভাবে সরব নয় বলেও উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী শিক্ষা সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বর্তমান সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নারীর ক্ষমতায়নকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইনা বরং নারীর সামাজিক অবস্থান এবং রাস্তায় চলাচল করার ক্ষেত্রেও ক্ষমতায়ন করতে চাই। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীকে ক্ষমতায়নে সাহায্য করবে। এই অর্থ থেকে নারী বিপদের সময় সে ব্যবহার করতে পারবে। অনেকেই সমালোচনা করতেছে যে শুধুমাত্র ফিমেল বাস চালু করলেই হবে কি না? কিন্তু আমি বলতে চাই এটার মাধ্যমে নারীর অধিকার রক্ষা ও ক্ষমতায়নের প্রাথমিক শুরু হয়েছে। নারীর প্রতি যৌনতা, অর্থনৈতিক অবহেলাসহ বিভিন্ন নির্যাতনের বিষয়ে আমরা অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করতেছি।

তিনি বলেন, আমরা নারীর সামাজিক ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় সম্মানজনক অবস্থানসহ বিভিন্নভাবে সম্মানজনকভাবে ভূমিকা রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। পোশাকশিল্প, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এবং বিদেশে নারীরা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নারীদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটা আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। একইসাথে আমরা স্বীকার করছি নারীর পূর্ণ ক্ষমতায়নে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা এসব বাঁধা অতিক্রম করে বর্তমান সরকার নারীকে ক্ষমতায়নের জন্য চেষ্টা করছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীরা যারা বিদেশে যাচ্ছেন তাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শক্তভাবে চাচ্ছেন তারা স্কীল অর্জন করে বিদেশে যেতে পারে। নারীরা আর আগামীতে শুধুমাত্র গৃহিনী হিসেবে বিদেশে গমন করবে না। আমি মনে করছি সরকার ও বিভিন্ন নারী সংস্থা একসাথে কাজ করে সিডও সনদ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আপনারা তো শুধুমাত্র নারীদের সম্পত্তির বিষয়ে বলেছেন কিন্তু বিবাহ বিচ্ছেদ বা গার্ডিয়ান শিপের বিষয়েও অনেক সমস্যা রয়েছে এবং এই বিষয়ে কথা বলায় অনেক হিন্দু নেতৃবৃন্দ মন খারাপ হয়েছিলেন। জেনেভাতে আপনারা যেতে পারবেন। বিগত সরকার দেখে ওখানে যাওয়া নারীরা কেউ যেন বিদেশী কারো সাথে কথা বলতে না পারে। আজকে এখানে কথা বলতে পারা, প্রস্তাবনা দেওয়া এসব বিষয়ের জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। অবশ্যই সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের ধর্মীয় বিষয়ে সম্মান করা উচিত। মুসলিম দেশ মানেই সব দেশে এই দুই ধারার বিষয়ে সংরক্ষণ দিয়েছে বিষয়টা কিন্তু এমন না। মরক্কো ও আমাদের আদরের ভালোবাসার দেশ প্যালেস্টাইনও কিন্তু সংরক্ষণ দেয় নাই আবার সিঙ্গাপুরের মতো দেশও সংরক্ষণ দিয়েছে। আমেরিকার মতো দেশের নারীরা কিন্তু ব্যাংকে একাউন্ট খোলা ছাড়া আর কিছু করতে পারবে না। সামাজিক আন্দোলনকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে হবে। পার্লামেন্টে পৌঁছে দিতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন