আগামী অর্থবছরে ব্যক্তির করমুক্ত আয় সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগামী অর্থবছরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করলে কোনো ব্যক্তিকে আয়কর দিতে হবে না। তবে নারী, সিনিয়র সিটিজেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধারা আরও অতিরিক্ত অর্থ করমুক্ত সুবিধা পাবেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় আগামী অর্থবছরসহ পরবর্তী পাঁচ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমার প্রস্তাব করেছেন। প্রথমবারের মতো ব্যক্তির আয়মুক্ত করসীমার পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে তার বক্তৃতায় বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি ন্যায্য, প্রযুক্তি-নির্ভর এবং পূর্বানুমানযোগ্য রাজস্ব কাঠামো তৈরি করা। করদাতারা যাতে ভবিষ্যতে তাদের করের দায় সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পেতে পারেন, সেজন্য আগামী ৫ বছরের জন্য একটি প্রগতিশীল করকাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও আয়মুক্ত করসীমা অপরিবর্তিত থাকবে। অপরদিকে ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ২৫ হাজার টাকা বেড়ে ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।
তবে ৬৫ বছর ঊর্ধ্বে সিনিয়র সিটিজেন প্রতি অর্থবছরে আরও অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা, তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতা ১ লাখ ২৫ হাজার, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধারা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার আয়করমুক্ত সীমা ভোগ করবেন। এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবকগণ প্রতিটি সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত সুবিধার সুযোগ পাবেন।
আগামী ২০২২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পরবর্তী ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ২৫ শতাংশ এবং পরবর্তী ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার অবশিষ্ট মোট আয়ের উপর উপর ৩০ শতাংশ হারে আয়কর প্রদান করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

