যাত্রাবাড়ীতে ধরা পড়ল আধুনিক অজ্ঞান পার্টির ৭ সদস্য

স্টাফ রিপোর্টার

যাত্রাবাড়ীতে ধরা পড়ল আধুনিক অজ্ঞান পার্টির ৭ সদস্য

বাসের সিটে পাশে বসে আলাপ জমায়, একটু পরেই এগিয়ে দেয় মিষ্টি বা খাবার। সেই খাবারে থাকে অদৃশ্য বিষ—চেতনানাশক। আর যদি সুযোগ না মেলে, তাহলে ভিড়ের মধ্যে চুপচাপ সুঁই ফুটিয়ে দেয় শরীরে। মুহূর্তেই ঢলে পড়েন যাত্রী, লুট হয়ে যায় সর্বস্ব। রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই শিকার ধরে আসছিল কুখ্যাত অজ্ঞান পার্টির একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অবশেষে সেই চক্রের ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) এনএম নাসিরুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৫ মে) গোপন তথ্যের সূত্র ধরে ডিবি মতিঝিল বিভাগের একটি বিশেষ দল যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় চত্বরে টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস বাস কাউন্টারের সামনে হানা দেয়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার হন মো. সাইফুল ইসলাম (৬০), মো. অপু আহমেদ সরকার (৩৮), মো. সুজন খান (৩৫), মুহাম্মদ রাশেদ ব্যাপারী (৫৮), মিঠু মিয়া ওরফে মন্টু ব্যাপারী (৫২), মো. মকবুল খন্দকার (৫৫) এবং মো. টুটুল বিশ্বাস ওরফে সুমন (৫৫)।

তাদের কাছ থেকে যা উদ্ধার হয়েছে, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। হামদর্দ ল্যাবরেটরিজের লোগোযুক্ত প্যাকেটে পলিথিনে মোড়ানো কালো রঙের হালুয়াসদৃশ চেতনানাশক দ্রব্য, আলাদা কৌটায় একই ধরনের হালুয়া, দ্রুত কার্যকর চেতনানাশক ইনজেকশন Milam ও Hypnofast, অজ্ঞান করার কলাকৌশল ও প্রচারণামূলক ৭টি লিফলেট এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৭টি মোবাইল ফোন—যেগুলো সম্ভবত ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লুট করা।

ডিবি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে স্পষ্ট হয়েছে, এরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও জনবহুল স্থানে নিয়মিত শিকার খুঁজত। কখনো বিশ্বস্ত সহযাত্রীর ভূমিকায় খাবারে মিশিয়ে দিত চেতনানাশক, কখনো ভিড়ে ঠেলাঠেলির ছলে ইনজেকশন পুশ করত। যাত্রী জ্ঞান হারানোর সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তেই গায়েব হয়ে যেত টাকা, মোবাইল, গহনা। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির একটি সূত্র জানিয়েছে, “ঈদ বা যেকোনো উৎসবের আগে বাস টার্মিনালগুলো অপরাধীদের জন্য ‘হটস্পট’ হয়ে ওঠে। সাধারণ যাত্রীদের প্রতি আমাদের পরামর্শ—অপরিচিত কারও দেওয়া কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবেন না। কেউ ইনজেকশন নিয়ে ঘোরাঘুরি করলে বা সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯-এ ফোন করুন।”

একই দিনে দুই থানায় আরও ৪৬ জন আটক

শুধু অজ্ঞান পার্টিই নয়, একই দিনে যাত্রাবাড়ী ও মুগদায় থানা পুলিশের পৃথক অভিযানেও ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৪ জন আটক হন। এদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় দুইজন, পুরোনো মামলায় তিনজন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় তিনজন এবং মোবাইল কোর্টে ১৬ জন। সবাইকে পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মুগদা থানার অভিযানে ধরা পড়েন আরও ২২ জন। তাদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় দুইজন, পুরোনো মামলায় একজন, পরোয়ানায় দুইজন এবং ডিএমপি অধ্যাদেশ ও মোবাইল কোর্টে ১৭ জন। তিনটি অভিযান মিলিয়ে একটি দিনেই মোট ৫৩ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

ডিএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে বাস টার্মিনাল ও পশুর হাটকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে অজ্ঞান পার্টিসহ সব ধরনের সুযোগসন্ধানী চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান সামনের দিনগুলোতেও চলমান থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...