প্রায় ৪৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পিকে হালদারসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বুধবার দুদক সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার আসামিরা হলেন—রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার), স্বন্দীপ কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী স্বপন কুমার মিস্ত্রী, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান নাসিম আনোয়ার ও এম এ হাশেম, সাবেক পরিচালক এম নুরুল আলম, মো. জহিরুল আলম, বাসুদেব ব্যানার্জী, মো. নওশেরুল ইসলাম, মো. আনোয়ারুল কবির, মো. নুরুজ্জামান ও রাশেদুল হক। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব বিজনেস নাহিদা রুনাই, সাবেক সিনিয়র ব্যবস্থাপক আল-মামুন সোহাগ, সাবেক ব্যবস্থাপক মো. রাফসান রিয়াদ চৌধুরী এবং সুকুমার মৃধাকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
দুদক জানায়, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার দাখিল করা অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলাগুলোতে নওশেরুল ইসলামকে পিকে হালদারের সহযোগী হিসেবে আসামি করা হয়েছে। দুদকে পাওয়া অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে নওশেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়। এজাহার অনুযায়ী, সম্পদ বিবরণীতে নওশেরুল ইসলাম ১০৬টি দলিলের মাধ্যমে ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬১ টাকা মূল্যের জমি এবং অবকাঠামো নির্মাণ বাবদ ১ কোটি ৩৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা—সব মিলিয়ে ৫ কোটি ৮২ লাখ ৮২ হাজার ৮৬১ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। তবে যাচাইয়ে ৫ কোটি ৯১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার, এফডিআর, ডিপিএস, বীমা, সঞ্চয়পত্র, জুয়েলারি, আসবাবপত্র, পেনশন স্কিম, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা টাকা ও নগদ অর্থসহ মোট ১৯ কোটি ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৭১২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ কোটি ৮৫ লাখ ৪১ হাজার ৬৭১ টাকা। অনুসন্ধানের সময় নওশেরুল ইসলাম সংশোধিত সম্পদ বিবরণী দাখিল করে জমি বিক্রির অগ্রিম বাবদ ১৩ কোটি ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪৭ টাকা পাওনা থাকার কথা জানান। এজাহারে ওই দায়-দেনা বাদ দিয়ে তার নিট সম্পদের পরিমাণ ১২ কোটি ৭১ লাখ ৭৫ হাজার ২৪ টাকা হিসাব করা হয়। এর সঙ্গে ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০২২-২০২৩ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথিতে পাওয়া ৪ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার ১৩০ টাকা পারিবারিক ব্যয় যোগ করে তার নামে অর্জিত মোট সম্পদের মূল্য ১৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অন্যদিকে, একই সময়ে আয়কর নথি পর্যালোচনা করে ভাতা, ব্যবসা, ফার্ম/খামার, কৃষি, নিরাপত্তা জামানতের সুদ, করমুক্ত আয়, অন্যান্য উৎস, বাড়িভাড়া, অন্যান্য প্রাপ্তি, মৎস্য, বোনাস শেয়ার, ব্যাংক সুদ, জমি বিক্রি ও জীবনবীমাসহ বিভিন্ন খাত থেকে মোট ১২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার ১৫৪ টাকা বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


