পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের অনুগত পরিবহণ মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পুরোনো কায়দায় দেশের মানুষদের জিম্মি করে দাবি আদায়ের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবহন সেক্টরে নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও তাদের চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি। বিগত সরকার দীর্ঘদিন যাবত পরিবহণ মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশন নেতাদের নিয়ে একচেটিয়াভাবে তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে সড়কে দুর্ঘটনা, অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে আসছিলেন। বিগত সরকারের পরিবহন নেতারা সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রণয়নে ভূমিকা পালন করেছিলেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতি দেশের ভুক্তভোগী নাগরিক সমাজের পক্ষে সড়ক আইনে কিছু জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মতামত দেয়ার জন্য নানান সময়ে নানাভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, বিগত ২০১১ সাল থেকে সড়কে ২০ বছরের পুরানো গাড়ি উচ্ছেদের জন্য পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের নিয়ে সরকার বার বার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান উৎস এসব পুরানো গাড়ি দেশের ভাবমূর্তির জন্য প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের রক্তে ভেজা নতুন বাংলাদেশে পরিবহণ মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নতুন নেতারা তাদের শক্তি জানান দিতে পুরোনো কায়দায় জাতিকে জিম্মি করে সড়ক আইন দুর্বল করা ও পুরোনো গাড়ির উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী অনতিবিলম্বে পুরোনো কায়দায় জাতিকে জিম্মি করার ‘পরিবহন ধর্মঘট’ প্রত্যাহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা, সড়ক নিরাপত্তা, পুরানো লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি উচ্ছেদ করে পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন উন্নত গণপরিবহন নামানো, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা, যাত্রী ও নাগরিক সমাজের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের নতুন নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

