দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ে নতুন মাত্রা যোগ করতে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে অংশ নিচ্ছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। মহড়ায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত কৌশলগত অনুশীলনের মাধ্যমে আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থা, বিশেষ করে অপ্রচলিত যুদ্ধ এবং ছোট ইউনিটভিত্তিক অভিযানের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
রোববার থেকে শুরু হওয়া এই মহড়া চলবে আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত। এ মহড়ায় দেশের সব ডিভিশনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের উপজেলা ও থানা আনসার কোম্পানির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন।
আনসার বাহিনীর সূত্র বলছে, আধুনিক ও অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশলে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা কাঠামোয় তৃণমূলভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সম্পৃক্ততা আরো জোরদার করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬-এ নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এবারই প্রথম উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আনসার কোম্পানির স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা দেশের সব ডিভিশনে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন বলে রোববার আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী সদস্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি, দুর্যোগ কিংবা নিরাপত্তা সংকটে দ্রুত সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারেন। সেই সক্ষমতাকে আরো কার্যকর ও সমন্বিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে সেনাবাহিনীর এই মহড়ায় অংশগ্রহণ একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মহড়ায় অংশ নেওয়ার আগে সদস্যদের জন্য তিন দিনব্যাপী অন-দ্য-জব ট্রেনিং সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে রেইড পরিচালনা, অ্যাম্বুশ, ফার্ম বেস স্থাপন, ছোট ইউনিটের কৌশলগত অভিযান এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বিত অপারেশনের বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রস্তুতি সদস্যদের বাস্তব পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলগতভাবে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
বাহিনীর বর্তমান নেতৃত্বের উদ্যোগে উপজেলা আনসার কোম্পানি ও প্লাটুনগুলোকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে শিক্ষিত, তরুণ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতাও শক্তিশালী হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে এ মহড়ায় স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের যৌথ মহড়া শুধু পারস্পরিক সমন্বয়ই বাড়াবে না, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বিত অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতাও আরো সুসংহত করবে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

