দেশের বেসরকারি ও কওমি মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে যাচাইবিহীন এবং একপাক্ষিক সংবাদ প্রচারের প্রবণতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’। কোনো অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আগেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করাকে ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে সংগঠনটি।
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী।
লিখিত বক্তব্যে শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী বলেন, ‘কওমি মাদরাসাগুলো যুগ যুগ ধরে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সাফল্য দেশের জন্য অনন্য গৌরব বয়ে এনেছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মাদরাসা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসম্পূর্ণ ও একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই অভিযোগ প্রচারের ফলে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম উদ্বেগ তৈরি করছে।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের প্রতি ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-প্রমাণ ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা, সংবাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, কোনো প্রকার একপাক্ষিক প্রচারণা থেকে বিরত থাকা, তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তা সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা এবং বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা নিশ্চিত করা।
মাদরাসাগুলোর অভ্যন্তরে নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেতৃবৃন্দ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—মাদরাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে স্বচ্ছতা ও সতর্কতা, শিশু সুরক্ষা ও নৈতিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা।
জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণা
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের মাদরাসাগুলোর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় পরিচালকদের নিয়ে ‘বাংলাদেশ মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’ গঠিত হয়েছে। সংগঠনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে আগামী ৩০ জুলাই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে একটি জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেখানে আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি হয়রানির শিকার ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন।
সংবাদ সম্মেলনে হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি শায়েখ ক্বারী আবদুল হক, মারকাযুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রিন্সিপাল শায়েখ ক্বারী নেসার আহমদ আন-নাসেরী, মাওলানা মোশাররফ হোসাইন মাহমুদ, মাওলানা ক্বারী সাইদুল ইসলাম আসাদ, মুফতি আবদুল কাইয়ুম মোল্লা, মাওলানা জোবায়ের আহমদ, মাওলানা আব্দুর রহমান মৃধা, মাওলানা ক্বারী ইলিয়াস লাহোরী, মাওলানা কাওসার আহমদ রাহমানী, মুফতি আবু সাঈদ, মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা সালমান রহমান, মুফতি আমির আহমদ রহমানী, মাওলানা আশরাফ সাফিন, মাওলানা সুলাইমান নোমান তাফহীম, মাওলানা সুলাইমান ঢাকুবীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও মুহতামিমবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শেষে, মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে যেকোনো অভিযোগের বিষয়ে আবেগপ্রবণ না হয়ে সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে, সাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যমকর্মী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের আগামী ৩০ জুলাইয়ের জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

