চলতি মৌসুমের সবচেয়ে উত্তপ্ত দিন পার করেছে দেশবাসী। আজ বুধবার চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত ৩ এপ্রিল চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ দশমিক সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল । আজ রাজধানীতেও মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়; ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এছাড়া আজ বুধবার সারাদেশের মধ্যে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় সামান্য বৃষ্টি ছাড়া আর কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি। তাপপ্রবাহের সাথে বিদ্যুতের লোডশেডিংও বেড়ে রাজধানীসহ সারা দেশে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি এবং তাপমাত্রার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। আগামী দুইদিন তাপমাত্রার পারদ আরো বাড়তে পারে। গত সোমবার ৯ জেলায় এবং মঙ্গলবার ১৪ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহ বয়ে গেলেও আজ বুধবার তা বেড়ে ২৪ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। আজ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সব ক’টি জেলা ছাড়াও ঢাকা, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, দিনাজপুর, রাঙামাটি ও বান্দরবন জেলার ওপর দিয়ে বইছে। সংস্থাটি বলছে, এ অবস্থা আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চলতে পারে। এরপর বৃষ্টির প্রবণতায় শনিবার কিংবা রোববার থেকে ধীরে ধীরে তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে ।
আজ বুধবার বিকালে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, বৃষ্টি না থাকায় টানা তিনদিন ধরে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে তাপমাত্রার পারদ ক্রমেই বাড়ছে। এরফলে বুধবার চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। রাজধানীর তাপমাত্রাও মৌসুমের সর্বোচ্চ। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকায় এর প্রভাবে প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম অনুভুত হচ্ছে।
তিনি জানান, আগামী শনিবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। আর আগামী রোববার থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে।
এদিকে ২৩ জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বইলেও ধীরে ধীরে তা আরো তীব্র হতে পারে। আগামী দুইদিনে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রী ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সারা দেশে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। তাপমাত্রা এতোই অসহনীয় হয়ে উঠছে যে; ঘরের বাইরের বাতাস আগুনের মতো অনুভুত হচ্ছে। তাপপ্রবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের সারাদেশে লোডশেডিংও বেড়েছে। রাজধানীসহ শহরাঞ্চলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় এবং গ্রামাঞ্চলে দিনের বেশির ভাগ সময় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে সারা দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।
আজ বুধবার কেরানিগঞ্জের ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, গরম আর লোডশেডিংয়ের কারণে ঘরে বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। একেবারেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একটু বৃষ্টি হলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত।
আজ দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় আলিম উদ্দিন নামের এক রিকশা চালক আমার দেশকে বলেন, দিনের তাপমাত্রা এতোটাই প্রখর যে গায়ে যেন আগুনের তাপ লাগছে। সেইসাথে ভ্যাপসা গরম। রাতেও শান্তি নেই; গরমের পাশাপাশি ঘন্টায় ঘন্টায় বিদ্যুত চলে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগের দিনের তুলনায় বুধবারও তাপমাত্রা বেড়ে রেকর্ড করা হয়েছে সর্বোচ্চ রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রী, গত মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখানে ৩৯ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিনও এ জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক শূন্য ডিগ্রি। এ নিয়ে টানা তিনদিন এ জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আগের দিনের তুলনায় গতকাল বুধবার রাজধানীতেও তাপমাত্রা এক ডিগ্রীও বেশি বেড়ে হয়েছে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রী, যা মঙ্গলবার ছিল ৩৫ দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। অবশ্য এর আগের দিন গত সোমবার রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৬ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক আমার দেশকে বলেন, আগের দিনের চেয়ে তাপমাত্রা তীব্রতা ও বিস্তৃতি বেড়েছে। এতে বুধবার চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। আগামী দুই-তিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি আরো জানান, আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত এ অবস্থা চলার পর বৃষ্টিপাতের প্রবণতায় তাপমাত্রা কমতে পারে। মে মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত কমবেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
চলতি মাসে একাধিক দফায় তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের বড় অংশে তাপপ্রবাহ মাঝারি থেকে তীব্র পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
তবে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, এবার তাপপ্রবাহ তীব্রতা বাড়লেও বিগত ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো টানা তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা নেই। কেননা, এবার তাপপ্রবাহের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে বৃষ্টি থাকবে। ২০২৪ সালে টানা ২৬ দিন এবং ২০২৩ সালে ২২ দিন দেশে তাপপ্রবাহ ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষায়, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২-এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়।
এমপি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

