বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৪ বোয়িং, চুক্তি সই আজ সন্ধ্যায়

স্টাফ রিপোর্টার

বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৪ বোয়িং, চুক্তি সই আজ সন্ধ্যায়

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রজন্মের ১৪টি উড়োজাহাজ। বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের লক্ষে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ঐতিহাসিক চুক্তি সই করতে যাচ্ছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।

যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষেই এই বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং বিমান চলাচল খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ সংস্থাটির পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে কোম্পানির প্রতিনিধি চুক্তি স্বাক্ষর করবেন।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ. হোসেন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছে সংস্থার এক কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে। এর মধ্যে থাকবে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট। উড়োজাহাজগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

কর্মকর্তারা জানান, এই ক্রয়াদেশের লক্ষ্য হলো- বিমানের বহর আধুনিকায়ন, দীর্ঘ দূরত্বের রুটে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।

ওয়াইড-বডি ড্রিমলাইনারগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দীর্ঘ রুটে সেবা জোরদারে ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে ৭৩৭ গঅঢ উড়োজাহাজ আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুট পরিচালনায় সহায়তা করবে।

এ চুক্তি স্বাক্ষরটি এমন এক সময় হচ্ছে, যখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর দ্বারপ্রান্তে। এটিকে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে বোয়িং ও ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের মধ্যে গত তিন বছরের তীব্র প্রতিযোগিতারও অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, এয়ারবাস যুক্ত হলে বিমানের সম্পূর্ণ বোয়িং নির্ভরতা কমবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

অন্যদিকে বোয়িং দীর্ঘদিনের আধিপত্য ধরে রাখতে ব্যাপক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা চালায়। তারা ড্রিমলাইনার, কার্গো বিমান এবং স্বল্প দূরত্বের উড়োজাহাজের প্রস্তাব দিয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন