আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বাংলাদেশ-জার্মানি ২১.৭৭ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর

আমার দেশ অনলাইন

বাংলাদেশ-জার্মানি ২১.৭৭ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও জার্মান সরকারের মধ্যে জিআইজেড কর্তৃক প্রস্তাবিত পাঁচটি প্রকল্পের জন্য ২১.৭৭ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং জার্মান সরকারের পক্ষে জিআইজেড ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেনরিখ-জুর্গেন শিলিং অনুদান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পগুলো হলো-: পলিসি এ্যাডভাইজারি ফর প্রমোটিং এনার্জি ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি (পিএপি) ২, স্ট্রেনদেনিং আরবান ইন্টিগ্রেশন ক্যাপাসিটিস অব ইন্টারনালি ডিসপ্লেসড পার্সনস অ্যান্ড সাপোর্টিং হোস্ট কমিউনিটিস (ইন্টিগ্রেট), প্রফেশনাল এডুকেশন ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সেফটি (পিআরইসিআইএসই), গ্রিন রুম এয়ার-কন্ডিশনিং (জিআরএসিই) এবং ডিজিটাল স্কিলস টু সাকসিড ইন এশিয়া (ডিএস২এস)।

পিএপি ২ প্রকল্পটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৯ সালের ৩১ জুলাই মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্পের অনুকূলে জার্মান সরকার ৯ মিলিয়ন ইউরো অনুদান বরাদ্দ করেছে। সামাজিকভাবে ন্যায্য এবং পরিবেশগতভাবে সুষম জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদ-সংক্রান্ত পরিস্থিতির উন্নতিসাধন করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

ইন্টিগ্রেট প্রকল্পটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটির অনুকূলে জার্মান সরকার ৪.৮০ মিলিয়ন ইউরো অনুদান বরাদ্দ করেছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ ঐসব এলাকায় বসবাসরত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীকরণ।

পিআরইসিআইএসই প্রকল্পটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটির অনুকূলে জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে ৭ মিলিয়ন ইউরো অনুদান হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে। যা বাংলাদেশে টিভিইটি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হবে।

জিআরএসিই প্রকল্পটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের ৩১ জুলাই মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্পের অনুকূলে জার্মান সরকার ০.৮ মিলিয়ন ইউরো অনুদান বরাদ্দ করেছে। এটি একটি গ্লোবাল প্রকল্প। জাতীয় নীতিমালার অংশ হিসেবে জলবায়ু বান্ধব ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী রুম এয়ার কন্ডিশনিং (গ্রিন এসি) এর প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

ডিএস২এস প্রকল্পটির অনুকূলে জার্মান সরকার প্রকল্প মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধিসহ অতিরিক্ত ০.১৭৫২১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান বরাদ্দ করেছে। মূল প্রকল্পটি ০.৩৮২৫২৬ মিলিয়ন ইউরো অনুদান সহায়তায় ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এটি একটি আঞ্চলিক প্রকল্প। নৈতিকতাভিত্তিক প্রযুক্তিগত জ্ঞানের মাধ্যমে এশিয়া অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান শ্রম-বাজারে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

জার্মান সরকার দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। ১৯৭২ সাল থেকে জার্মান সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার মোট প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪.০০ বিলিয়ন ইউরো। বর্তমানে জিআইজেড বাংলাদেশে ১৮টি প্রকল্পে ১০০.৭২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান সহায়তা প্রদান করছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন