জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, এ সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ কোটি টাকার মতো। কিন্তু এ কয়েক মাসে এ ঋণের পরিমাণ আরো এক লাখ কোটি টাকার বেশি বেড়ে এখন ২৪ লাখ কোটি টাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের চার মাসে আরো এক লাখ কোটি টাকা ঋণের জালে দেশকে বেঁধে ফেলেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আখতার হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রীর ২৩৪ পৃষ্ঠার বক্তব্যের মধ্যে দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক যে বিপর্যয় চলছে, সোশ্যাল ফেব্রিকে যে ক্ষতি হয়েছে, এখান থেকে যদি আমরা পুষিয়ে উঠতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের রাজনৈতিক সংস্কার করতে হবে। সে রাজনৈতিক সংস্কার কি আমরা সরকারি দলের মধ্যে দেখতে পাই? জনগণ গণভোটের রায় দিয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য রায় দিয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলছে না। জনগণ স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য রায় দিয়েছে, এখন পর্যন্ত সরকারি দল সে বিষয়ে কিছু বলছে না।
তিনি বলেন, আমরা যদি সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারি, গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে না পারি, সংস্কার বাস্তবায়ন করতে না
পারি আইএমএফের কাছ থেকে আমাদের অর্থমন্ত্রীকে যেমন করে ফিরে আসতে হয়েছিল, সংস্কার বাস্তবায়ন করতে না পারলে সরকারি দলকেও জনগণের কাছ থেকে ফিরে আসতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নের সময় অবশ্যই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে, সঠিক পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
অর্থনৈতিক সংস্কার না হওয়ায় আইএমএফ ঋণ দেয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আইএমএফ চেয়েছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতগুলোতেও একটা বড় ধরনের সংস্কার আসুক। অর্থনৈতিক খাতগুলোতে কোনো ধরনের সংস্কার হচ্ছে না। অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে কোনো ধরনের সংস্কারের ব্যাপারে বিএনপি সরকার ইতিবাচক না।
আখতার হোসেন বলেন, ব্যাংক খাতে এক ধরনের অরাজকতা চলছে। শুধু ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে বলব না, আরো পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে, সেগুলো আগের মালিকদের কাছে আবারও বহাল হতে পারে—এমন ধরনের আইন (ব্যাংক রেজুলেশন আইন) এখানে পাস করা হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, যেসব মালিক এ ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করেছে, টাকা পাচার করেছে, লুটপাট করেছে, সেসব মালিকের কাছেই ব্যাংকগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার ফায়দা কি হতে পারে?
দেশের অর্থনীতি ঝুঁপড়ির মতো মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময়কালে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সে শ্বেতপত্রে আওয়ামী লীগের সময়ে ২৪০ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। দেশের অর্থনীতিটা এখন একটা ঝুঁপড়ির মতো। ঝুঁপড়িতে আসলে টাকা-পয়সা নেই। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ আমাদের অর্থনীতিকে একেবারে পঙ্গু অবস্থায় নিয়ে গেছে। মুদ্রাস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি।
বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, বাজেট ঘোষণার আগেই সরকার তার এ তিন মাসের সময়কালের মধ্যেই দুদফায় বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে, অর্থাৎ সরকার শুধু বাজেট ঘোষণার পর জিনিসের দাম বেড়েছে ব্যাপারটা এমন নয়, জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর মেকানিজম শুরু করেই বাজেট ঘোষণা করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

