বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং কারাবন্দী অবস্থায় সুচিকিৎসার অভাবে তিনি বর্তমানে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
এ অবস্থায় তার জীবন বাঁচাতে এবং নিঃশর্ত মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শওকত মাহমুদের বড় মেয়ে মেহেত মামুন।
কারাবন্দী সাংবাদিক শওকত মাহমুদের জীবন সংকটাপন্ন, শারীরিক অবস্থা চিত্র তুলে ধরে তার চিকিৎসার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন পাঠিয়েছেন মেহেত মামুন। আবেদনে বলা হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী এই সাংবাদিক নেতা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, সিওপিডি (COPD), শ্বাসকষ্ট এবং বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। ২০০৪ সালে তার হৃদযন্ত্রে ৬টি বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০১৩ ও ২০২২ সালে আরও ৪টি রিং (স্টেন্ট) বসানো হয় । গত বছরের ৭ ডিসেম্বর গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৬ জানুয়ারি তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চলনশক্তি হারিয়েছেন এবং তার জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো আবেদনে উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আইনি জটিলতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদনে বলা হয়, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তাকে একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে একটির পর একটি মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
পরিবারের দাবি, আওয়ামী শাসনামলে ৭০টি মামলার শিকার হয়েও তিনি কখনও আদর্শের প্রশ্নে আপস করেননি। অথচ বর্তমান সময়ে একটি কুচক্রী মহল ভুল তথ্য দিয়ে তাকে দল ও নেতৃত্বের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, যার ফলে তাকে দলের পদ থেকেও অব্যাহতি পেতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন আওয়ামী দুঃশাসনের রোষানলে পড়ে শওকত মাহমুদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সার্বিকভাবে পুরো পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। মেহজত মামুন তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে না পারা এমনকি পরিবারের একমাত্র সম্বল মায়ের ব্যক্তিগত গাড়িটি বিক্রি করে তাঁদের সংসার চালাতে হয়েছে। বর্তমানে একদিকে আইনি লড়াইয়ের খরচ এবং অন্যদিকে বাবার ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে ।
শওকত মাহমুদের পক্ষ থেকে আকুতি
কারাগার থেকে পাঠানো বার্তায় শওকত মাহমুদ জানিয়েছেন, শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে তিনি কখনও বিচ্যুত হননি। দলের নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, অজান্তে কোনো ভুল করে থাকলে তিনি তার জন্য ক্ষমা প্রার্থী এবং প্রধানমন্ত্রীর যে কোনো সিদ্ধান্ত তিনি মাথা পেতে নেবেন। তার কন্যার ভাষায়, “আমার আব্বা বর্তমানে এতটাই অসুস্থ যে তিনি হয়তো কারাগারেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন, যদি না তাকে জরুরি ভিত্তিতে মুক্তি দেওয়া হয়” ।
শওকত মাহমুদের চার দশকের সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কথা বিবেচনা করে এবং মানবিক কারণে তার সুচিকিৎসা ও মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টিই এখন পরিবারের শেষ ভরসা বলে জানানো হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

