সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ থেকে শুরু করে চলতি অধিবেশনে এ পর্যন্ত যা হয়েছে তাতে জনগণ হতাশ বলে শীর্ষক এক বৈঠকে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন জাতীয় সংসদ তথা সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর ন্যাস্ত ছিল। কিন্তু ইতিমধ্যে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ১১টি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, শপথকালীন সময় থেকে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যগণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে বিরত থাকার কারণে এ সংকটের শুরু হয়। এ ছাড়া ‘অবৈধ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণা’ বলে জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি সরকার অবমূল্যায়ন করেছে। সংবিধানের অপব্যাখ্যা দিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার অনীহা দেখাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। সুতরাং জনগণ যখন কোন রায় দেয় (গণভোট) তা রাষ্ট্রের যে কোন প্রতিষ্ঠানের (সংসদ বা আদালত) সিদ্ধান্তের চেয়ে নৈতিকভাবে ঊর্ধ্বে থাকে। এখানে সংসদ বা আদালত হচ্ছে গঠিত শক্তি আর জনতার রায় হচ্ছে গাঠনিক ক্ষমতা এখানে জনতার রায়ই শেষ কথা। তাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অর্থ হলো জনগণের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তকার বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ সরাসরি কার্যকর করুন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে নির্ধারিত সময়ে কাজ সমাপ্ত করার পাশাপাশি গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫ এর কার্যকারিতা যে কোন মূল্যে সচল করুন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি না মানলে জনগণ আবারো গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে আমিরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিলের পরিচালনায় বক্তব্য প্রদান করেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বীক্রম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল মাজেদ আতাহারী, জাগপা’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বিডিপির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নাঈম, খেলাফত মজলিস যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীসহ বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও পেশাজীবীবৃন্দ প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

