মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্য অর্জনে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
রোববার ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন কেবল প্রশাসনের এক একক দায়িত্ব নয়। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
মাদক বর্তমান সমাজের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও অধিকতর সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা, জুলুম-নির্যাতন ও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছিল এবং দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। সেই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীলভাবে ভূমিকা রাখলে যেকোনো সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।’
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাস ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস ও অন্যান্য সন্দেহভাজন স্থানে অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থে প্রশাসনের সব কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির অন্যান্য সদস্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


