পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
রোববার বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদ্যাপনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, সভায় পয়লা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের নামকরণ বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে শোভাযাত্রা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজকের এই সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, পয়লা বৈশাখ বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের অংশ, যার শিকড় প্রাচীন কৃষিভিত্তিক সমাজে নিহিত। কৃষিকাজ, ঋতুচক্র ও নতুন বছরের সূচনাকে কেন্দ্র করে এ উৎসবের বিকাশ ঘটেছে। গ্রামীণ সমাজে বৈশাখকে ঘিরে মেলা, গান, নৃত্য ও নানা লোকজ আয়োজনের মাধ্যমে এ উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে।
মন্ত্রী বলেন, পয়লা বৈশাখ মূলত আনন্দ ও মঙ্গলের প্রতীক। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে অতীতের গ্লানি ভুলে ভবিষ্যতের মঙ্গল কামনা করাই এ উৎসবের মূল দর্শন। তবে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ও ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামকরণকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ভবিষ্যতে শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বাদ্যযন্ত্র ও লোকজ উপস্থাপনাকে স্থান দেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে বিভ্রান্তি ও মতবিরোধ দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে।
ইউনেস্কো যে স্বীকৃতি ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা করে অনেকে বলেছিল সেটা হয়তো প্রত্যাহার করা হতে পারে। সেই জায়গাটা পরিবর্তন হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা কি ইউনেস্কোর দ্বারা পরিচালিত সরকার নাকি। আগে যখন আনন্দ শোভাযাত্রা ছিল তখনও তো ইউনেস্কো ছিল, আগে যখন মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল, তখন ইউনেস্কো ছিল। এখন আমরা জাস্ট ইউনেস্কোকে জানিয়ে দেব যে আমাদের দেশে এখন থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা হবে। ইউনেস্কোর স্বীকৃতি নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর রমনা বটমূলসহ বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য বজায় রেখে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে নববর্ষ উদযাপন করতে হবে। গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত থাকলেও জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কবে থেকে সাধারণ মানুষের জন্য চালু হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে আমাদের এখনো কাজকর্ম সব কমপ্লিট হয়নি। এখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে খুব শিগগিরই হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এছাড়া সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতা ও আয়োজক কমিটির কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতিমন্ত্রীর মঙ্গল শোভাযাত্রাপ্রীতি