আ.লীগের ঝটিকা মিছিল

বেআইনি সমাবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ

বেআইনি সমাবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলসহ বেআইনি সমাবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনূস।

বিজ্ঞাপন

রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ১০ উপদেষ্টার উপস্থিতিতে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, গত কিছুদিনে কিছু ঘটনার ঘটেছে, তার আলোকে এই বৈঠক হয়। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ঝটিকা মিছিলসহ বেআইনি সমাবেশের বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করতে হবে। এর নেপথ্যে যারা সক্রিয় রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মিটিংয়ে নির্দেশ দেওয়া হয় যে স্থানীয় প্রশাসন আরো সক্রিয়ভাবে যাতে যেসব ঘটনা ঘটছে সেগুলো মোকাবিলা করে সে বিষয়ে আজকের বৈঠকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

শফিকুল আলম বলেন, বৈঠকে আলোচনায় আসে যে পতিত পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি যখনই দেখছে দেশ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে এবং জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের সাথে জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে, তখনই তারা মরিয়া ও বেপরোয়া হয়ে পড়ছে। এর ফলে তারা দেশের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে সব শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে। এটা এখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নয়, এটা জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈঠকে বলা হয় দেশের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার মনে করে দেশের স্বার্থে জনগণের সাথে সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জুলাইকে সামনে রেখে আমাদের রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হয় এবং বলা হয় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং সবাই মিলে সামনের নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এ বিষয়ে আরো নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন যে আসন্ন দুর্গাপূজায় অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে নানান ষড়যন্ত্রমূলক চেষ্টা হতে পারে।

প্রেস সচিব বলেন, গত বছর দুর্গাপূজার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। গত বছরের অভিজ্ঞতাকে এ বছরও কাজে লাগাতে পারি এবং তিনি জোর দিয়েছেন যাতে এবার নিরাপত্তা সব ধরনের আগে থেকেই নেওয়া হয়, যাতে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য দেশের সকল ধর্মভিত্তিক সংগঠনের সাথে বৈঠকের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্ম উপদেষ্টা অতি শীঘ্রই বিভিন্ন গ্রুপের সাথে কথা বলবেন।

তিনি বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে ক্রমাগতভাবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মনিটর করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুতি রাখতে হবে। এর পাশাপাশি ডাকসু নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও অপূর্ব জাহাঙ্গীর।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন