বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদকে আর কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেব না

ফ্যাসিবাদকে আর কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেব না
প্রেস ক্লাবে এক শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: আমার দেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমাদের মধ্যে হাসিনা ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় যে ঐক্য তৈরি হয়েছে তা আরো শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের সামনে রাজনীতি পরিষ্কার। আমরা আর কখনো ফ্যাসিবাদকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেব না। আর কখনো রাজপথে গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হোক তা আমরা চাই না। আমাদের সেই পরিবেশ আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোনো পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে জুলাই কারো একার না। জুলাইয়ের চেতনা দিয়ে কেউ ব্যবসা করবেন না। মনে রাখতে হবে, গুলবিদ্ধ হবে জেনেও আমাদের যে সমস্ত সন্তানরা বন্দুকের সামনে গিয়ে জীবন দিয়েছে, তারা সবাই একটা মুক্ত গণতন্ত্রের দেশ চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল বৈষম্যহীন একটা সমাজ ব্যবস্থা।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে হাসিনার পিছনে অনেক শক্তি ছিল, রাষ্ট্রযন্ত্র ছিল, বিদেশি শক্তি ছিল। আর আমাদের সামনে ছিল নিরস্ত্র এবং নিরীহ জনগণ এবং ছাত্র সমাজ। যারা খালি হাতে লড়াই করে এই সশস্ত্র দানবের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে। তাদের উচ্চারণ ছিল বুকের ভিতর কি যেন অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে দ্বিমত থাকবে, বহুমত থাকবে। সেটা সংসদের থাকবে, সংসদের বাইরে থাকবে। কিন্তু জাতীয় এই প্রশ্নগুলোতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যদি আমরা না থাকি কেবলই স্বৈরাচারের ফেরার পথটা প্রসারিত হবে। সেটাকে আমরা কেউ চাই না। স্বৈরাচারের পুনরুত্থান যদি আমরা না চাই তাহলে সংসদীয় রাজনীতিটাকে শক্তিশালী করতে হবে; এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিটাকে শক্তিশালী করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ক্ষমতার লোভে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যাতে দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকতেই পারে। সংসদ, রাজপথ কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গনে সেই মতভেদ প্রকাশ পাবে। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকারের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ক্ষমতার লোভে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যাতে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে। কারণ গণতন্ত্র দুর্বল হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অতীত অধ্যায়। দলটির কোনো বর্তমান বা ভবিষ্যৎ নেই দাবি করে সরকারের প্রতি দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা কঠোরভাবে দমনের আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে জামায়াতের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

নুরুল হক নুর দাবি করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের ব্যবহার করে জামায়াতপন্থিদের পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জ্বালানি খাত ও বিসিএস ক্যাডারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন